লন্ডন পালানোর প্রাক্কালে সিলেট বিমানবন্দরে প্রতারণা মামলার আসামি মাকসুদা চৌধুরী গ্রেফতার
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি | দৈনিক জীবনযাত্রা:
যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মাকসুদা চৌধুরীকে (৫৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ ১২ জুলাই (রোববার) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ওঠার আগমুহূর্তে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাকসুদা চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার সদর থানার রাউটগাঁও গ্রামের শাহ মো. ছালেক হোসেনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
লন্ডন ফ্লাইটে ওঠার আগেই ধরা
বিমানবন্দর ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার সকালে মাকসুদা চৌধুরী সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-২০১’ (BG201) ফ্লাইটে চড়ে যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশনে উপস্থিত হন। তবে তার বিরুদ্ধে আদালতের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা ও লুকআউট নোটিশ থাকায় ইমিগ্রেশন ডেস্কের কর্মকর্তাদের সফটওয়্যারে বিষয়টি ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে এবং সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত বিমানবন্দরে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
১ জুলাই দায়ের হয়েছিল মামলা
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বা আর্থিক বড় ধরনের প্রতারণার অভিযোগে গত ১ জুলাই সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় মাকসুদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়, যার জিআর নম্বর—০৩/৩৩৮। মামলার পর থেকেই তিনি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন এবং সুকৌশলে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন। বর্তমানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই আবদুল কুদ্দুস আসামিকে থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
পুলিশের বক্তব্য
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, “প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাকসুদা চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডন যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী