জগন্নাথপুরে ধানের চারা রোপণ নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ১: এলাকায় উত্তেজনা
বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট | শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী। দৈনিক জীবনযাত্রা
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় ধানের চারা রোপণ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় সেলিম উদ্দিন (৩৯) নামের এক ব্যক্তি নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। আজ (১০ জুলাই) এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিহত সেলিম উদ্দিন জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামের কবির আলীর পুত্র বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি ফসলি জমিতে ধানের চারা রোপণ করাকে কেন্দ্র করে সেলিম উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের অপর একটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। আজ ফসলি জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম রূপ নেয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দুই পক্ষই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের কোপ ও লাঠিসোটার আঘাতে গুরুতর জখম হন সেলিম উদ্দিন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকায় উত্তেজনা ও মামলার প্রস্তুতি
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও গ্রামবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে উত্তর গড়গড়ি গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আপনজনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা। নিহতের পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিচার চেয়ে প্রতিপক্ষের ঘাতকদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী