নাটোরে ডাবের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে টাকা ছিনতাই: খুলনায় লালপুর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, অজ্ঞান পার্টির ২ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার
/ ক্রাইম ডেস্ক: নাটোরের লালপুরে ফল ব্যবসায়ীদের কৌশলে চেতনানাশক মেশানো ডাবের পানি পান করিয়ে অচেতন করে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লালপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চেতনানাশক বিভিন্ন সামগ্রীসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এ সংক্রান্ত নিয়মিত মামলায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডাবের পানির সাথে চেতনানাশক খাইয়ে সর্বস্বান্ত
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাটোরের লালপুর থানাধীন গোপালপুর রেলগেট সংলগ্ন ‘ভাই ভাই ফল ভান্ডার’-এর যৌথ মালিক মো. রাসেল (২৬) ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মো. শামীম হোসেন (৩৫) প্রতিদিনের মতো দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। গত ২৬ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফল বিক্রেতা পরিচয়ে তাঁদের দোকানে আসে এবং পাইকারি দরে ফল সরবরাহের প্রস্তাব দেয়।
নমুনা হিসেবে সে ডাব, তরমুজ ও সাম্মাম প্রদর্শন করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে তরমুজ ও সাম্মাম কেটে রাসেল ও শামীমকে খেতে অনুরোধ করে এবং নিজেও খায়। তবে ব্যবসায়ীরা তা খেতে অপারগতা জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের ডাব পান করার অনুরোধ করে। সরল বিশ্বাসে সেই ডাবের পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাসেল ও শামীম অচেতন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা রাসেলের জিন্স প্যান্টের পকেটে থাকা ফল বিক্রির নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা লুটে নিয়ে নির্বিঘ্নে চম্পট দেয়।
প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অচেতন থাকার পর স্থানীয়রা তাঁদের মাথায় ও মুখে পানি ঢেলে চেতনা ফিরিয়ে আনলে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে স্বজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে লালপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী রাসেল। পেনাল কোডের ৩২৮/৩৭৯ ধারায় রুজু হওয়া মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুল ইসলাম।
খুলনায় সাঁড়াশি অভিযান ও গ্রেফতার
মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেন এবং অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে লালপুর থেকে খুলনা জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। খুলনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়।
পরবর্তীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. মো. ইমরান খান (৩৭), পিতা—মো. আ. রাজ্জাক, মাতা—ওছিরন বেগম; স্থায়ী ঠিকানা: উদবাড়িয়া, ধারাবারিষা, গুরুদাসপুর, নাটোর (বর্তমান ঠিকানা: হেতালবুনিয়া, বাদশা মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা—বটিয়াঘাটা, খুলনা)।
২. মো. আব্দুল মুসা (৪২), পিতা—মো. আ. হানিফ; স্থায়ী ঠিকানা: বটবুনিয়া, তিলডাঙ্গা, দাকোপ, খুলনা (বর্তমান ঠিকানা: ১২৭/১৩ বানরগাতিয়া তৃতীয় গলি, থানা—সোনাডাঙ্গা, খুলনা)।
আদালতে সোপর্দ ও তদন্তের অগ্রগতি
লালপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট সত্যতা ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁদের কাছ থেকে চেতনানাশক সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী