ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হত্যার প্রধান ঘাতক নুরুল ইসলামসহ খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন
বিশ্বনাথ ও মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী| দৈনিক জীবনযাত্রা:
মৌলভীবাজারে বিশ্বনাথের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ হত্যার আসল ঘাতক নুরুল ইসলাম ও তার সহযোগী খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১০ জুলাই (শুক্রবার) বেলা ২টায় স্থানীয় আমতৈল গ্রামের পিছর মুখে বন্যাকবলিত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে শত শত সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গাজির মোকাম জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং আমতৈল দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতি ফারুক আহমদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেবুল মিয়া, বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের আমির নিজাম উদ্দিন সিদ্দিক, উপজেলা বিএনপি নেতা খসরুজ্জামান খসরু, রামপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ সাত্তার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন এবং বিএনপি নেতা এনাম শাহ।
বিদেশ যাওয়ার টাকা ফেরত চাওয়াই কাল হলো আজিজের
মানববন্ধনে রামপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন নিহত আব্দুল আজিজ হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরে বলেন, “নিহত ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বিদেশ যাওয়ার জন্য শেরপুর বাজারের শুঁটকি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ পাঠানোর বাহানা করে তাকে বিদেশে পাঠায়নি। একপর্যায়ে আব্দুল আজিজ তার জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতন্ডা হয়। মূলত এই টাকা ফেরত চাওয়াই আব্দুল আজিজের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত না দেওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকেই নুরুল ইসলাম ব্যবসায়ী আজিজকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করে। হত্যাকাণ্ডের দিন নুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে আব্দুল আজিজকে জরুরি কথা আছে বলে শেরপুর বাজারে ডেকে নেয়। ওই দিন রাতেই নুরুল ইসলাম ও তার ভাড়াটে সহযোগীরা আব্দুল আজিজকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা চালায়।
খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের আলটিমেটাম
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল আজিজের মতো একজন নিরীহ ও সৎ ব্যবসায়ীকে যেভাবে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা স্থানীয় ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, অবিলম্বে প্রধান ঘাতক নুরুল ইসলাম এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত তার সকল সহযোগী খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বক্তব্য পর্বের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নিহত আব্দুল আজিজের বড় ভাই আব্দুল হাই। তার আবেগঘন তেলাওয়াত ও কান্নায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে আরও অংশ নেন—রামপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি নেছার আহমদ, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য নুর মিয়া মেম্বার, বিএনপি নেতা মধু মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমদ, ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেরুজ্জামান, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন রশীদ, বিএনপি নেতা কালন মিয়া, ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাকিব আলী মেম্বার, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান আলতাই, শায়েখ আহমদ, সেচ্ছাসেবক দল নেতা কাওছার আহমদ, তুবাই আহমদ, বিএনপি নেতা সিরাজ, ছুরত, রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, জিলাল আহমদ, হুমায়ুন রশীদ প্রমুখ।
সম্পাদক ও প্রকাশ
এস এম সোহাগ ফরাজী