একজন পাগল কীভাবে লাশ বস্তাবন্দী করলো? জনমনে প্রশ্ন: মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ী হত্যার মূল অপরাধী কি ধরাছোঁয়ার বাইরে?
সিলেট প্রতিনিধি | শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নে এক শুঁটকি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে বাথরুমে বস্তাবন্দী করে রাখার লোমহর্ষক ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোলেমান মিয়াকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) ভোররাতে স্থানীয় একটি ডোবার কচুরিপানার ভেতর থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গ্রেফতারকৃত সোলেমান প্রকৃতপক্ষে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন বা ‘পাগল’। আর এই পাগলকে ঢাল বানিয়ে হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা আসল অপরাধীদের আড়াল করার একটি বড় ধরনের অপচেষ্টা চলছে।
নিহত আব্দুল আজিজ (৩২) সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার আমতৈল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় একজন শুঁটকি ব্যবসায়ী ছিলেন।
“সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে নুরুল ইসলাম ও তার পরিবার”
নিহতের ছোট ভাই মোঃ আব্দুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
“আমার ভাই বাড়িতেই ছিলেন। ঘটনার দিন শেরপুরের শুঁটকি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম আমার ভাইকে মোবাইল ফোনে সেখানে যাওয়ার জন্য ডাকে। এই নুরুল ইসলামের দোকানেই আমার ভাই দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর যাবত চাকরি করতো। আমার ভাইকে সুপরিকল্পিতভাবে এই নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সবাই মিলে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে খলিলপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের সুবাহান হাজীর বাড়ির বাথরুমে আব্দুল আজিজের বস্তাবন্দী রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশ।
কচুরিপানার নিচ থেকে আটক, দা উদ্ধার
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক থাকা সোলেমান মিয়াকে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে আজিজকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং তার দেখানো স্থান থেকে রক্তমাখা দা-টি উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য, জনমনে তীব্র ক্ষোভ
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি কীভাবে এত নিখুঁতভাবে ও পরিকল্পিত উপায়ে একজনকে হত্যা করে, এরপর লাশ বস্তাবন্দী করে বাথরুমে লুকিয়ে রাখতে পারে?
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, গ্রেফতারকৃত সোলেমান এলাকায় একজন স্বীকৃত পাগল হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু এই খুনের পেছনে রয়েছে গভীর কোনো রহস্য, ব্যবসায়িক বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা। মূল পরিকল্পনাকারীরা সোলেমানের মানসিক ভারসাম্যহীনতাকে কাজে লাগিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এখন সোলেমানকে ‘পাগল’ হিসেবে সামনে এনে মূল হোতারা নিজেদের বাঁচানোর ছক কষছে, যাতে আইনি ফাঁকফোকর গলে আসল অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।
মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর নেপথ্যে অন্য কারো ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। শুঁটকি ব্যবসার কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি অন্য কোনো শত্রুতা থেকে এই পরিকল্পিত ছক আঁকা হয়েছিল, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী