গোয়াইনঘাটে প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ, আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘিরে দাম্পত্য বিরোধ, অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি জটিলতা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী সৌদি প্রবাসী রুহুল আমিনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম গ্রামের সেলিম উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন ২০২২ সালে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার হেমু নায়াগ্রামের খায়রুল্লাহর মেয়ে তাসফিয়া জান্নাত তিশার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর কিছুদিন তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও পরে তারা যৌথ পরিবার থেকে আলাদা হয়ে বসবাস শুরু করেন। ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর উন্নত জীবিকার আশায় রুহুল আমিন সৌদি আরবে পাড়ি জমান।
প্রবাসী রুহুল আমিনের দাবি, বিদেশে অবস্থানকালে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতেন। তবে পরে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ জানতে পারেন। দেশে ছুটিতে এসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে পুনরায় সৌদি আরবে ফিরে যান।
তার অভিযোগ, পরে তাসফিয়া জান্নাত তিশা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শাহ আলম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যান এবং প্রায় ৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আগের বৈবাহিক সম্পর্কের আইনগত নিষ্পত্তি ছাড়াই ২০২৫ সালের ১৮ মে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে শাহ আলমকে বিয়ে করেন।
এদিকে তাসফিয়া জান্নাত তিশা সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১০ নম্বর আমলি আদালতে রুহুল আমিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মোজাম্মেল হক তদন্ত শেষে স্থানীয় ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।
পরবর্তীতে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনিকে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাসফিয়া জান্নাত তিশার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সৌদি প্রবাসী রুহুল আমিন বলেন, “আমার প্রবাস জীবনের উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আমার স্ত্রী চলে গেছেন। এরপরও তিনি আমার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা করে হয়রানি করছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে আদালতে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।