‘সাথীর জামিন হয়েছে কিন্তু তিন রাতের ট্রমার দায় কার?’: সরকারের সমালোচকদের গ্রেপ্তারে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এমপি ড. মাহমুদা মিতু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারের জামিন মঞ্জুর হলেও, কারাগারে কাটানো তিন রাতের মানসিক আঘাত ও ভুক্তভোগীকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য ড. মাহমুদা মিতু। তিনি একে মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের স্পষ্ট হরণ উল্লেখ করে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সাথী আক্তারের জামিন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এক কড়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
‘চোরের বদলে ভুক্তভোগী জেলে’:
আইনশৃঙ্খলা ও বিচার প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে ড. মাহমুদা মিতু বলেন, “সাথীর আজ জামিন হয়েছে, কিন্তু তিনটি রাত মেয়েটাকে জেলে কাটাতে হলো—তার অপরাধটা আসলে কী ছিল? এই তিন রাতের ট্রমা যে কতটা গভীর ও বিভীষিকাময়, সেটা বোঝার মতো সংবেদনশীল মন কি আমাদের রাষ্ট্র বা সমাজের আদৌ হবে?”
তিনি আরও যোগ করেন, “যেখানে মব তৈরি করে যারা মেয়েটার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করতে গেল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না; উল্টো ভুক্তভোগী মেয়েটাকেই পুলিশ ধরে নিয়ে গেল এবং আদালতও প্রাথমিকভাবে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠাল। যেখানে অপরাধী ও চোরের জেলে থাকার কথা, সেখানে উল্টো ভুক্তভোগীকে বন্দিদশা বরণ করতে হচ্ছে।”
সমালোচনা দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ:
চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনের তুলনা টেনে ড. মাহমুদা মিতু অভিযোগ করেন, “কেবল সরকারের নীতিমালার সমালোচনা করার দায়ে গত ১০ মাসে ৩০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি সরাসরি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার হরণের শামিল।”
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বর্তমান প্রশাসনও পুরনো ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইছে। নূন্যতম আত্মলজ্জা বা চক্ষুলজ্জাটুকুও প্রদর্শন করা হচ্ছে না।”
‘ফ্যাসিবাদ-২ লোডিংয়ের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই’:
সাধারণ মানুষের প্রতি প্রশ্ন রেখে এই আইনপ্রণেতা বলেন, “সাথীর জায়গায় যদি আজ আপনার নিজের বোন হতো, তবে আপনার কেমন লাগত? সেদিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন বিনাকারণে কেবল অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অপরাধে অনেক ভাই ও বোনকে বিনা বিচারে কারাগারে যেতে হবে।”
প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে ড. মাহমুদা মিতু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যারা ভিন্নমত দমন করে দীর্ঘমেয়াদে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের স্মরণ রাখা উচিত—১৭ বছরের দুঃশাসনের মতো স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই; গণপ্রতিরোধের মুখে ধ্বংস হতে মাত্র ১৭ দিনই যথেষ্ট হবে। সাথীরাই এসব অবিচারের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী