গৌড়ীয় সাহিত্য সম্মেলন বাঙালির আদি ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেছে: বাংলা একাডেমিতে সাবেক মন্ত্রী নাজিম উদ্দীন আল আজাদ
স্টাফ রিপোর্টার (শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী):
ঐতিহাসিক গৌড়ীয় সাহিত্য সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে আবহমান বাঙালি জাতির প্রাচীন ইতিহাস ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব, যা দেশের সাহিত্য অঙ্গনে নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ধর্ম ও পানিসম্পদ মন্ত্রী নাজিম উদ্দীন আল আজাদ।
তিনি বলেন, “প্রাচীনকালের বাঙালি জাতির গৌরব রাজা শশাঙ্ক এবং মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক গৌড়ের সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের বলিষ্ঠ ভূমিকার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের আধুনিক বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ রূপ পেয়েছে। তাই আমরা রাজা শশাঙ্ক এবং সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহকে নিয়ে দ্বিধাহীনভাবে গর্ববোধ করতে পারি। সেই গৌরবময় ইতিহাস-ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব শিল্প-সাহিত্য চর্চায় অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।”
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব আয়োজিত দিনব্যাপী ঐতিহাসিক গৌড়ীয় সাহিত্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গুণীজনদের অংশগ্রহণ ও সাহিত্য পাঠ:
বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাবের চেয়ারম্যান কবি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কপিরাইট রেজিস্ট্রার অফিসের সাবেক রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুল আজিজ।
সম্মেলন উপলক্ষে দেশের প্রায় অর্ধশত কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট ঐতিহাসিক গৌড়ীয় সাহিত্য সম্মেলন এবং বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাবের সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে স্বরচিত কবিতা ও গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ পাঠ করেন, যা নিয়ে বিশদ আলোচনা ও পর্যালোচনা করেন উপস্থিত আলোচকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন—
সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান কবি ড. শহীদুল্লাহ আনসারী,
মূল প্রবন্ধকার বিশিষ্ট সাহিত্য গবেষক হরিদাস ঠাকুর,
মহাপরিচালক কবি ড. সাহেদ মন্তাজ,
কেন্দ্রীয় সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জমির হোসেন, এবং
‘জাগ্রত ব্যবসায়ী জনতা’র কর্ণধার শিহাব রিফাত আলম রূপম।
এ ছাড়া যৌথভাবে বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাপরিচালক গীতিকবি ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার, অধ্যাপক মিলন রায়, পরিচালক কবি মির্জা আশরাফুল ইসলাম, লেখক লতিফা জাহান, সঙ্গীতগুরু জাকির হোসেন আখের, কবি আফরোজা জেসমিন, নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি কবি ফারুক আল ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক কবি জান্নাতুন নাঈম এবং ঢাকা মহানগর সভাপতি কবি ফারুক প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সাহিত্য অধিবেশনে স্বরচিত কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল, কবি মেহের নিগার চঞ্চল, অধ্যাপক রকিব খান, দার্শনিক আবু মহি মুসা এবং ডা. পীরজাদা আজমিরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অর্ধশতাধিক কবি ও সাহিত্যিক।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির সাবলীল সঞ্চালনা ও উপস্থাপনায় ছিলেন কেন্দ্রীয় সুপ্রিম কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক কবি ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী কৃষ্ণকলি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে স্বরচিত কবিতা ও মানসম্মত গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ অংশগ্রহণকারী লেখকদের মাঝে সম্মানজনক ‘গৌড়ের সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ স্মারক পদক’ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
এস এম সোহাগ ফরাজী