সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি ও অবমাননাকর মন্তব্য: ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ, ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম
আদালত প্রতিবেদক:
সাংবাদিকদের নিয়ে চরম আপত্তিকর, অবমাননাকর মন্তব্য এবং প্রকাশ্যে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ইসলামি বক্তা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে লিগ্যাল নোটিশ (আইনি নোটিশ) পাঠানো হয়েছে।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠন ‘কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, নোটিশ হাতে পাওয়ার আগামী সাত দিনের মধ্যে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে তাঁর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে মানহানি, হামলার প্রকাশ্য হুমকি ও সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওয়াজ মাহফিলে কী বলেছিলেন আব্বাসী:
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার।’
তিনি সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীকে সমর্থনের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলেন, ‘একটা যুবক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে। সাংবাদিকরা ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করে নাই, প্রচার করেছে পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক। এরা হলুদ সাংবাদিকতা করে। এরা বিদেশি ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ কর্তৃক পয়সায় চলে। বাংলাদেশ ভালো হোক এটা তারা চায় না।’
আইনি নোটিশের বক্তব্য ও যুক্তি:
নোটিশে আইনজীবী তুলে ধরেন, ওয়াজ মাহফিলের মতো একটি বৃহৎ জমায়েতে দাঁড়িয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি নিজে যেমন সাংবাদিকদের শারীরিক নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনি তাঁর অন্ধ অনুসারীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রত্যক্ষ উসকানি তৈরি করেছেন। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এক চরম ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে ঢালাওভাবে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চর ও হলুদ সাংবাদিক আখ্যা দিয়ে তিনি পেশাদার সাংবাদিকতা এবং গোটা সাংবাদিক সমাজের জন্য অবমাননাকর, মানহানিকর ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছেন।
আগামী সাত দিনের মধ্যে নোটিশের সন্তোষজনক জবাব ও প্রকাশ্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না এলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি লড়াই ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম।
এস এম সোহাগ ফরাজী