বিচার গানের প্রবর্তক হালিম বয়াতির ৯৬তম জন্মবার্ষিকীতে টিএসসিতে ‘স্মরণোৎসব’: প্রকাশ হবে স্মারকগ্রন্থ, বসবে গানের আসর
সংস্কৃতি প্রতিবেদক:
বাঙালির লোকসংগীতের আঙিনায় যার সুর ও বাণী অমলিন, সেই কালজয়ী সাধক হালিম বয়াতির ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আগামী ৩০ অক্টোবর। লোকসংগীতে বিচার গানের প্রবর্তক হিসেবে সমাদৃত এবং পাঁচ সহস্রাধিক গানের এই অমর রচয়িতার জন্মজয়ন্তী উদযাপনে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ণাঢ্য ‘হালিম বয়াতি স্মরণোৎসব ২০২৬’।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রথিতযশা গবেষকদের আলোচনা ও স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের পাশাপাশি পরিবেশিত হবে তাঁর কালজয়ী গানগুলো।
আয়োজক সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘হারিকেন’ জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উৎসবের সূচনা হবে।
গবেষক ও গুণীজনদের আলোচনা পর্ব:
অনুষ্ঠানের সূচনায় আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ আলোচনা সভা। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক শফিকুর রহমান চৌধুরী, প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, লেখক ও গবেষক তপন বাগচী এবং লোকসংস্কৃতি গবেষক সাইমন জাকারিয়া।
এ পর্বে কিংবদন্তি শিল্পীর পারিবারিক ও সংগীত জীবনের নানা অজানা স্মৃতিচারণ করবেন তাঁর সন্তান নিশানে হালিম এবং তাঁর শিষ্য লাল মিয়া বয়াতি ও নজরুল বয়াতি। একই সঙ্গে এ উৎসবে উন্মোচিত হবে হালিম বয়াতির জীবন, দর্শন ও সৃষ্টির ওপর প্রকাশিত বিশেষ স্মারকগ্রন্থ।
দুই ডজন শিল্পীর বাউল গানের আসর:
আলোচনা পর্বের সমাপ্তির পরপরই শুরু হবে লোকসংগীত ও বাউল গানের জমজমাট পরিবেশনা। এতে অংশ নিয়ে হালিম বয়াতির কালজয়ী সব গান পরিবেশন করবেন দেশের প্রায় দুই ডজন নন্দিত লোকসংগীতশিল্পী।
সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেবেন আলেয়া বেগম, ফকির আবুল সরকার, লতা দেওয়ান, রুমা সরকার, মুক্তা সরকার, সৈয়দ আশিকুর রহমান, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বগা তালেব, আকাশ গায়েন, শাহ মোহাম্মদ শিপন, সোহাগ প্রামাণিক, খোকন চিশতি, মারুফ মৃন্ময়, জয়িতা অর্পা, সানজিদা প্রমি, ইমরান হোসাইন, অভিবাদন দাস, নবীন কিশোর গোস্বামী, নাজমুল সরকার নিহাত, রহমান জনি, মনিরুজ্জামান খান, মাল সালমান ও মাহাবুব খালাসী।
সংগ্রামী জীবন ও অমর সৃষ্টি:
উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালের ৩০ অক্টোবর মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কিংবদন্তি এই সুরসাধক। তাঁর পুরো নাম আবদুল হালিম মিয়া। মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের ভুবনে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি কেবল অসাধারণ কণ্ঠশিল্পীই নন, পাঁচ হাজারেরও বেশি অবিস্মরণীয় লোকগানের সফল রচয়িতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। গানের পাশাপাশি তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও অবদান রাখেন।
লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি তাঁকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে। এ ছাড়া তিনি কবি জসীমউদ্দীন গবেষক স্বর্ণপদকসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। সুরের সাগরে আবহমান বাংলাকে ভাসিয়ে ২০০৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্তলোকে পাড়ি জমান এই মহান সাধক।
এস এম সোহাগ ফরাজী