সিলেটের কানাইঘাটে সিএনজিচালক শাহাব উদ্দিন হত্যাকাণ্ড: বাবা ও চার ছেলেসহ একই পরিবারের ৫ জন গ্রেপ্তার
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় গাড়িতে যাত্রী তোলার সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক শাহাব উদ্দিনকে (৩০) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযুক্তদের আটক করে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে নিহত চালকের পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কানাইঘাট উপজেলার ২ নম্বর লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের বাসিন্দা মজন আলী এবং তাঁর চার ছেলে যথাক্রমে মো. ইয়াহইয়া, জাকারিয়া, শাহরিয়ার ও কিবরিয়া।
মামলা দায়ের ও পুলিশের তৎপরতা:
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শাহাব উদ্দিনের ভাই এনাম উদ্দিন বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে কানাইঘাট থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনসহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক পাঁচ আসামিকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে যথাযথ পুলিশি পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ:
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় স্ট্যান্ডে সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী তোলার সিরিয়াল ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ নিয়ে প্রায় এক মাস আগে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষ মজন আলীর পরিবারের চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা ছিল।
তবে সেই সালিশ বৈঠকের আগেই ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী হামলার ছক আঁকে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে নিজ বাড়ির অদূরে শাহাব উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর বুকে ও পেটে উপর্যুপরি আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শাহাব উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত মতরিস আলীর ছেলে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী