সিলেটের গোয়াইনঘাটে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে চাঁদাবাজির অভিযোগ: ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিসহ ৮ নেতাকে শোকজ
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুরে রাতের অন্ধকারে পণ্যবাহী ট্রাক ও গাড়ি আটকে মালামাল লুটপাট এবং চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম উদ্দীনসহ দায়িত্বশীল ৮ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সিলেট জেলা ছাত্রদল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রাহেল স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
শোকজপ্রাপ্ত অন্যান্য নেতারা হলেন—ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি বেলাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তুফায়েল আহমেদ হেলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী, নাজমুল ইসলাম মান্না, শাহ রিয়াদ আহমেদ এবং নাজমুল হাসান নাঈম। বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিডিও ফাঁসের পরও শুধু শোকজ, ক্ষোভ সামাজিক মাধ্যমে:
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতেহপুর এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ি আটকে চাঁদা দাবির সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ এবং একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কথোপকথনের প্রমাণ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন অকাট্য প্রমাণের পরও জড়িতদের সরাসরি বহিষ্কার না করে কেবল কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ায় স্থানীয় জনমনে ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ‘নরম পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার ও ষড়যন্ত্রের দাবি:
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তুফায়েল আহমেদ (হেলু)। তিনি বলেন, “গোয়াইনঘাটের হাতিরপাড়া-মানিগঞ্জ সড়কে রাতের আঁধারে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে একশ্রেণির চোরাকারবারি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। এতে সাধারণ পথচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। স্থানীয়ভাবে দুর্ঘটনা ও চোরাচালান বন্ধের উদ্দেশ্যে আমরা কয়েকজন মিলে গাড়িগুলো থামিয়েছিলাম। ঠিক তখনই সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা পরিকল্পিতভাবে ভিডিও ধারণ করে তা বিকৃতভাবে ছড়িয়ে দেয়। আমরা স্পষ্টতই গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার।”
এদিকে গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুমিনুল হক এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে জানান, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে কোনো চাঁদাবাজ, দখলদার বা অন্যায়কারীর ঠাঁই নেই। অভিযুক্তদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হলে কিংবা তদন্তে অপরাধের বিন্দুমাত্র সত্যতা প্রমাণিত হলে দল কঠোর সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী