দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর: সিউলে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের পরিধি আরও সম্প্রসারণ, ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের পারস্পরিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে রাজধানী সিউলে অত্যন্ত ফলপ্রসূ দুটি পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সিউলে আয়োজিত এ বৈঠকগুলোতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক, এমপি, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (এনইএসএ) এবং ‘কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (সিএকে)-এর শীর্ষ প্রতিনিধিদলের সাথে বিস্তারিত আলোচনায় মিলিত হন।
ইপিএস ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যৌথ উদ্যোগ:
এনইএসএ (NESA) প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস)-এর অধীনে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের কোটা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি তিনি প্রচলিত নিয়মিত কর্মসংস্থানের বাইরে মৌসুমি কৃষিকাজ, আধুনিক কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রে মানসম্মত কোরীয় ভাষা শিক্ষার পরিধি বাড়াতে যৌথ সহযোগিতার জোরালো আহ্বান জানান।
দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কোরিয়ার স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদন খাতের চাহিদা ও কর্মপরিবেশের উপযোগী করে যেকোনো ধরনের দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও যোগ্য জনশক্তি সরবরাহ করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
উক্ত সভায় এনইএসএ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশি কর্মীদের ইতিবাচক ভূমিকা ও সম্ভাবনার প্রশংসা করেন। বৈঠকে কোরিয়া গমনের পূর্বেই কর্মীদের বাস্তবসম্মত ভাষা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক ব্যবহারিক ওরিয়েন্টেশন নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়, যাতে কর্মীরা দ্রুত কোরিয়ান সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।
কোরিয়ার লাভজনক নির্মাণ খাতে কাজের সুযোগ:
পরবর্তীতে কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (CAK)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত পৃথক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী দেশটির বিশাল ও আকর্ষণীয় নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক মেগা প্রকল্পে বাংলাদেশি অবকাঠামো কর্মীদের সফল কাজের ট্র্যাক রেকর্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ প্রদানে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখছে।
সিএকে এবং কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, নির্মাণ খাতে পেশাগত নিরাপত্তা, যোগাযোগের সক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট ট্রেডে ব্যবহারিক দক্ষতা অপরিহার্য। তাঁরা স্বীকার করেন, কার্যকর ভাষা জ্ঞান ও নির্মাণ সংক্রান্ত সনদধারী বাংলাদেশি তরুণদের কোরিয়ার আবাসন ও অবকাঠামো শিল্পে সম্পৃক্ত করার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উভয় বৈঠকেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মধ্য দিয়ে কোরিয়ায় বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও উচ্চ আয়ের শ্রমবাজারের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।
এস এম সোহাগ ফরাজী