• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
‘সাথীর জামিন হয়েছে কিন্তু তিন রাতের ট্রমার দায় কার?’: সরকারের সমালোচকদের গ্রেপ্তারে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এমপি ড. মাহমুদা মিতু চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে রাজধানীতে ফ্ল্যাটে আটকে রাখা ১২ নারী উদ্ধার: দেশ আবারও একটি মাফিয়া স্টেটে পরিণত হচ্ছে নাহিদ ইসলাম পটুয়াখালীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার: মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার: ৬ জেলে গ্রেপ্তার, ৪ লাখ ৪৩ হাজার মিটার জাল ও ৩টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ লাইসেন্স ছাড়া টয়লেট সোপ উৎপাদন: বিউটি কেয়ার কারখানাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা বিএসটিআই’র স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩৯ জনের মৃ-ত্যু: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের গভীর শোক অবৈধ অভিবাসন বন্ধ ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর কড়া তাগিদ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর: ‘কথা নয়, কাজে হবে পরিচয়’: ৩নং দাড়িয়াল ইউপি নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মো. রিপন শরিফ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান, ধ-র্ষ-ণ মামলার অভিযুক্ত সেই শিক্ষক

গোয়াইনঘাটে যুবককে কু-পি-য়ে হ-ত্যা: ৩০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ,

শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী / ৭৯ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: ৩০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, নেপথ্যে রহস্যজনক ভোরের যাত্রা

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ভোরে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে বদরুল আলম (৩৮) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের সঙ্গীর দাবি, তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ৩০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিতেই এ বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। তবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে শেষ রাতের যাত্রা ঘিরে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম জামে মসজিদ সংলগ্ন পাকা সড়কে এ রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত বদরুল আলম গোয়াইনঘাট উপজেলার হাদারপার গ্রামের মৃত তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের পদপ্রত্যাশী ছিলেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে বালু-পাথরের ব্যবসা এবং ডেইরি ও গরুর খামারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

৩০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের দাবি সঙ্গীর:

ঘটনার সময় বদরুল আলমের সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা আহত প্রত্যক্ষদর্শী সাদেক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়িক লেনদেনের নগদ ৩০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সাদেক জানান, শনিবার দিবাগত রাতে মনরতল বাজার থেকে তাঁদের যৌথ ব্যবসার নগদ ৩০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ভোরের দিকে গোরাগ্রাম মসজিদ সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁদের গতিরোধ করে। দুর্বৃত্তরা সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালালে বদরুল তাতে তীব্র বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা ধারালো দা, ছুরি ও ছুলফি দিয়ে বদরুলের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের উপুর্যপরি আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বদরুল।

ঘটনাস্থলে ছুটে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া জানান, শেষ রাতে সাদেকের চিৎকার ও বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদ শুনে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হামলা ও ধস্তাধস্তির দৃশ্য দেখতে পান।

নিহতের বড় ভাই আখলাকুল আম্বিয়াও দাবি করেছেন, ব্যবসায়িক লেনদেনের সংগৃহীত নগদ টাকা নিয়েই তাঁর ভাই ভোরে বাড়ি ফিরছিলেন এবং সেই টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

টাকার দাবি নিয়ে পুলিশের সংশয় ও তদন্ত:

তবে নগদ ৩০ লাখ টাকার বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানান, “ঘটনাস্থলে ৩০ লাখ টাকা থাকার কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সঙ্গে নিয়ে ঠিক কী উদ্দেশ্যে শেষ রাতে বা এত ভোরে যাত্রা করা হচ্ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে এলাকায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়নি; তবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

যেসব প্রশ্ন ঘিরে গভীর রহস্য:

এদিকে শান্ত ভোরের এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে নানামুখী আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—

১. এত ভোরে মোটরসাইকেলে করে নগদ ৩০ লাখ টাকা পরিবহন করার ঝুঁকি কেন নেওয়া হলো?

২. বিপুল অঙ্কের এই অর্থ কোথা থেকে এল এবং এর পেছনে কোনো বৈধ ব্যাংক লেনদেন কিংবা নথিপত্র রয়েছে কি না?

৩. এটি কি কেবলই পেশাদার ছিনতাইকারীদের কাজ, নাকি স্থানীয় বালু ব্যবসা, রাজনৈতিক আধিপত্য কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটানো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর গোরাগ্রাম ও হাদারপার এলাকায় তীব্র শোক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। খুনিদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

এস এম সোহাগ ফরাজী

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd