• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
‘সাথীর জামিন হয়েছে কিন্তু তিন রাতের ট্রমার দায় কার?’: সরকারের সমালোচকদের গ্রেপ্তারে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এমপি ড. মাহমুদা মিতু চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে রাজধানীতে ফ্ল্যাটে আটকে রাখা ১২ নারী উদ্ধার: দেশ আবারও একটি মাফিয়া স্টেটে পরিণত হচ্ছে নাহিদ ইসলাম পটুয়াখালীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার: মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার: ৬ জেলে গ্রেপ্তার, ৪ লাখ ৪৩ হাজার মিটার জাল ও ৩টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ লাইসেন্স ছাড়া টয়লেট সোপ উৎপাদন: বিউটি কেয়ার কারখানাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা বিএসটিআই’র স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৩৯ জনের মৃ-ত্যু: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের গভীর শোক অবৈধ অভিবাসন বন্ধ ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর কড়া তাগিদ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর: ‘কথা নয়, কাজে হবে পরিচয়’: ৩নং দাড়িয়াল ইউপি নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মো. রিপন শরিফ সব সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি চান, ধ-র্ষ-ণ মামলার অভিযুক্ত সেই শিক্ষক

চায়ের পাতা থেকে পিএইচডি পর্যন্ত: লংলা থেকে অন্ধ্রে চম্পা নাইডুর অনুপ্রেরণাদায়ী উড়াল

শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী / ১৪৫ Time View
Update : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চায়ের পাতা থেকে পিএইচডি পর্যন্ত: লংলা থেকে অন্ধ্রে চম্পা নাইডুর অনুপ্রেরণাদায়ী উড়াল

স্টাফ রিপোর্টার, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:

সবুজে ঘেরা পাহাড় আর ভোরের কুয়াশায় ভেজা চা-পাতার ঘ্রাণে যে জীবনের শুরু, সেই জীবন আজ সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গেছে ভারতের অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণাগারে। তিনি চম্পা নাইডু। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের এক সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণীর গল্প আজ আর সাধারণের গণ্ডিতে আটকে নেই। হাজারো বঞ্চনা আর সীমাবদ্ধতার শেকল ভেঙে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন—স্বপ্ন দেখার সাহস আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে চা-বাগানের মেঠোপথ থেকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছানো সম্ভব।

চম্পার এই বদলে যাওয়ার গল্পের বীজ রোপিত হয়েছিল ২০১০ সালে। চা-শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে প্রতিষ্ঠিত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুলে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। থাকা, খাওয়া ও বই-খাতার দুশ্চিন্তামুক্ত সেই পরিবেশেই প্রথম বড় হওয়ার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন চম্পা। ২০১৫ সালে ক্যামেলিয়া ডানকান হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের সঙ্গে মাধ্যমিক (এসএসসি) সম্পন্ন করেন। এরপর ভর্তি হন কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজে। ২০১৭ সালে সেখান থেকেও সাফল্যের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) শেষ করার পর তাঁর মেধার স্বীকৃতি হিসেবে মেলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি। সেই বৃত্তির আলো চা-বাগানের এক চিলতে অন্ধকার ঘরে বয়ে আনে নতুন আশার কিরণ।

উচ্চশিক্ষার যাত্রায় চম্পার পরবর্তী ঠিকানা হয় সিলেটের স্বনামধন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে পা রেখেও তিনি কখনো ভুলে যাননি তাঁর শেকড়কে। পড়াশোনার ফাঁকে ছুটির দিনগুলোতে নিয়মিত ছুটে যেতেন নিজের জন্মমাটি লংলায়। কাজ করতেন চা-বাগানের অবহেলিত শ্রমিকদের মৌলিক মানবাধিকার, শিশুদের শিক্ষা ও নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। খুব কাছ থেকে দেখা চা-শ্রমিকদের ঘাম, কান্না আর দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাসই পরবর্তীতে হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান গবেষণার বিষয়।

প্রতিকূলতাকে জয় করে ২০২৩ সালে ভারত সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘আইসিসিআর’ (ICCR) স্কলারশিপ অর্জন করেন চম্পা। সুযোগ পেয়ে পাড়ি জমান ভারতের অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেওয়ার পেছনেও ছিল গভীর আবেগ—এ মাটির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে তাঁর পূর্বপুরুষদের তেলুগু শেকড়ের আদি ইতিহাস।

এরপর ২০২৫ সালে নিজের গবেষণার দক্ষতায় আবারও অর্জন করেন সম্মানজনক আইসিসিআর পিএইচডি স্কলারশিপ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র পূর্বপুরুষের মাটির টানে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগেই পিএইচডি গবেষণার কাজ শুরু করেন তিনি।

২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল—এই তিন বছর চম্পার আন্তর্জাতিক গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম, তাঁদের মানবাধিকার এবং সমাজবাস্তবতা। চম্পা নাইডু তাঁর স্বপ্ন প্রসঙ্গে বলেন, “আমি কেবল চা-বাগানের সমস্যাগুলো তুলে ধরে ক্ষান্ত হতে চাই না, বরং কার্যকর সমাধানের পথ বের করাই আমার লক্ষ্য। কোন ধরনের রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা প্রণয়ন করলে চা-শ্রমিকদের জীবনমানের স্থায়ী পরিবর্তন আসবে এবং নাগরিক হিসেবে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে—সেটাই আমার কাজের মূল উদ্দেশ্য। আমার গবেষণার থিম ‘পাবলিক পলিসি ও হিউম্যান রাইটস’।”

চম্পা নাইডুর এই ঐতিহাসিক অর্জন আজ লংলা চা-বাগানের প্রতিটি ঘরে ঘরে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। একসময় যেখানে চা-বাগানের মেয়েদের শৈশবেই ঝরে পড়ার প্রথা ছিল, আজ সেখানে তাঁর সাফল্য দেখে অন্য শিশুরা বুক ফুলিয়ে বলছে—‘চম্পা দিদির মতো আমরাও একদিন পারব।’ তিনি বাগান ছেড়ে যাননি; বরং অবহেলিত চা-জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে পুরো চা-বাগানকে হৃদয়ে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

 

এস এম সোহাগ ফরাজী

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd