বিশ্বনাথে প্রবাসীর ছেলের উচ্চশিক্ষার জমানো ৭ লাখ টাকা চুরি: থানায় অভিযোগ
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী | সিলেট প্রতিনিধি, দৈনিক জীবনযাত্রা
প্রকাশ: ০৮ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বনাথ (সিলেট): সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বসত ঘর থেকে ছেলের উচ্চশিক্ষার জন্য জমিয়ে রাখা নগদ ৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে একই গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত ৫ জুলাই (রবিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামে এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। আজ বুধবার (৮ জুলাই) পুলিশ অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগের সূত্র থেকে জানা গেছে, পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামের বাসিন্দা ও কুরুয়া বাজারের ব্যবসায়ী মো: খলিলুর রহমান খলকু (৫৫) তাঁর ব্যবসা থেকে উপার্জিত এবং বহু কষ্টে জমানো ৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা একটি শপিং ব্যাগে রেখেছিলেন। টাকাগুলো তিনি নিজের শয়নকক্ষের পালঙ্কের (খাট) সাইড বক্সে অত্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।
জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে ব্যাগ চুরি
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সুযোগ বুঝে একই গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে জয়নাল মিয়া (৩৫) খলিলুর রহমানের ঘরের জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে কৌশলে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক ওই মুহূর্তে ঘরে থাকা খলিলুর রহমানের ছেলে টাকা চুরির বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। কিন্তু কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্ত জয়নাল মিয়া টাকাভর্তি শপিং ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চুরির খবর পেয়ে ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান খলকু কুরুয়া বাজার থেকে তড়িঘড়ি করে বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর তিনি পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে বিশ্বনাথ থানায় জয়নাল মিয়াকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জয়নাল মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
“ছেলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার”
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান খলকু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার বড় ছেলে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করেছিল। অনেক কষ্ট করে, নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তার পড়াশোনার খরচের জন্য এই টাকাগুলো জমিয়েছিলাম। সম্প্রতি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটারও (Offer Letter) এসেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা জমা দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আমার সব শেষ হয়ে গেলো। চোর আমার ছেলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল।”
তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ
এই বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে এবং টাকা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী