গাছ কাটার ভিডিও নিয়ে বিরোধে পিচ্চি জাহিদ খুন: ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ১২ আসামি গ্রেফতার, আদালতে আজাদের স্বীকারোক্তি
/ ক্রাইম ডেস্ক:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বহুল আলোচিত জাহেদুল আলম ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ (৩৩) হত্যাকাণ্ডে এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আসামি মো. আজাদ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গাছ কাটার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার জেরে বিরোধ
তদন্তে জানা যায়, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটা ও আত্মসাতের অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন জয়নাল আবেদীন মানিক। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে জাহিদ স্থানীয় নতুনহাট এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের সামনে মানিক ও তাঁর সঙ্গীদের হুমকি দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁদের মধ্যে চরম বিরোধের সূত্রপাত হয়।
গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নতুনহাট এলাকায় জাহিদকে পেয়ে আসামিরা প্রথম দফায় মারধর করে এবং ভিডিও নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে জাহিদ তাঁর সঙ্গী মো. ওয়াহিদকে (২৫) নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাজালিয়া স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় পৌঁছালে সড়কে গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি ফেলে তাদের গতিরোধ করা হয়।
সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি রামদা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহিদকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। হামলায় তাঁর সঙ্গী ওয়াহিদও গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও সাঁড়াশি অভিযান
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সার্বিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে প্রথমে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে আসামি মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে আসামিদের একটি বড় অংশ রাজধানীতে আত্মগোপন করার তথ্য পেয়ে জেলা ডিবির একাধিক চৌকস টিম ঢাকায় অভিযান চালায়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত আরও ১০ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় মোট ১২ এজাহারভুক্ত আসামি ডিবির জালে আটকা পড়ল।
গ্রেফতারকৃত ১২ আসামির তালিকা
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
১. জসিম উদ্দিন (৫০)
২. জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬)
৩. মো. রিদুয়ান (২৬)
৪. মো. টিপু (৩৫)
৫. আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০)
৬. আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০)
৭. খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২)
৮. মো. রবিউল হোসেন (২১)
৯. আবুল কাশেম (৩৮)
১০. হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮)
১১. মো. হেলাল এবং
১২. মো. আজাদ
আদালতে আজাদের জবানবন্দি ও তদন্তের অগ্রগতি
গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি মো. আজাদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, ১৬৪ ধারায় দেওয়া আজাদের তথ্য এবং অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলার বাকি এজাহারভুক্ত আসামি ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী