বন্দির চাপ ও ভোগান্তি কমাতে চট্টগ্রাম বিভাগের ৭ উপজেলায় ‘সাব-জেল’ নির্মাণের প্রস্তাব
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক জীবনযাত্রা
চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম বিভাগের বিদ্যমান কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বন্দির অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ার ভোগান্তি লাঘবে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় ‘সাব-জেল’ বা উপ-কারাগার নির্মাণের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব কারা অধিদপ্তরে জমা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কারা কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবিত উপজেলাগুলো হলো—চট্টগ্রামের পটিয়া, সন্দ্বীপ ও বাঁশখালী; কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী; নোয়াখালীর হাতিয়া এবং বান্দরবানের লামা। এসব উপজেলায় সাব-জেল নির্মাণের বিস্তারিত রূপরেখা কারা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. ছগির মিয়া।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “ব্রিটিশ শাসনামলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিচারপ্রার্থী মানুষের বিচারিক কার্যক্রম সহজ করতে বিভিন্ন জেলায় চৌকি আদালত স্থাপন করা হয়েছিল। শত বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত এসব দূরবর্তী চৌকি আদালতের বন্দিদের বিচারের জন্য জেলা শহরের কারাগারগুলোতে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, প্রচুর সরকারি অর্থ ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় এবং জেলা শহরের কারাগারগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় জমে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “চৌকি আদালতগুলোতে নিয়মিত বিচারকার্য চলছে। তাই সংলগ্ন এলাকায় সাব-জেল থাকলে আসামিদের শহরে না এনে স্থানীয়ভাবেই রাখা সম্ভব হবে, যা পুলিশ প্রশাসন ও বন্দি উভয়ের ভোগান্তি কমিয়ে আনবে।”
কারা কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে বর্তমানে ২টি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ মোট ১২টি কারাগার চালু রয়েছে। এসব কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দি রাখা হচ্ছে।
কারাগারগুলোর অনুমোদিত ধারণক্ষমতা:
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার: ২,২৪৯ জন (বর্তমানে অবস্থান করে প্রায় ৭,০০০ জন)
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার: ১,৭৪২ জন
কক্সবাজার জেলা কারাগার: ৮৩০ জন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার: ৭৮০ জন
নোয়াখালী জেলা কারাগার: ৫০০ জন
চাঁদপুর জেলা কারাগার: ৪৭৫ জন
ফেনী জেলা কারাগার-১: ৩৯২ জন ও কারাগার-২: ১৭২ জন
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগার: ২৯৫ জন
রাঙামাটি জেলা কারাগার: ১৪৫ জন
বান্দরবান জেলা কারাগার: ১১৪ জন
খাগড়াছড়ি জেলা কারাগার: ৮১ জন
সব মিলিয়ে বিভাগটিতে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার বন্দি অতিরিক্ত অবস্থান করে থাকে। ডিআইজি প্রিজন্স ছগির মিয়া জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনুমোদনের লক্ষ্যেই প্রস্তাবনাটি কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা সমন্বয়ের পাশাপাশি বন্দি ব্যবস্থাপনা অনেক বেশি আধুনিক ও নিরাপদ হবে।