যৌনকর্মকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি পুনম পান্ডের, খোলামেলা ভিডিওকে বললেন ‘সমাজসেবা’
বিনোদন ডেস্ক, দৈনিক জীবনযাত্রা
ঢাকা:
বিতর্ক ও পুনম পান্ডে যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। নিজের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও খোলামেলা মন্তব্যের কারণে বারবার খবরের শিরোনামে আসা এই ভারতীয় মডেল ও অভিনেত্রী এবার যৌনপেশাকে সরকারি স্বীকৃতি ও নিয়মতান্ত্রিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার পক্ষে মত দিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি আলোচিত পডকাস্টে অংশ নিয়ে সমাজে নারীদের ওপর ঘটে যাওয়া নানা অপরাধ ও সহিংসতা কমানোর পথ নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন পুনম। সেখানে তিনি দাবি করেন, আধুনিক সমাজে পুরুষদের মানসিক চাপ মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর মতে, যৌনকর্মকে যদি সরকারিভাবে বৈধতা দিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত ও আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, তবে সমাজে নারীঘটিত অপরাধ ও যৌন সহিংসতার মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
আলোচনা চলাকালে নিজের তৈরি করা বহুল বিতর্কিত ও খোলামেলা ভিডিও প্রসঙ্গেও সোজাসাপ্টা কথা বলেন পুনম। এসব ভিডিও নির্মাণকে তিনি কোনো অন্যায় বা ‘পাপ’ বলে মনে করতে নারাজ। বরং তাঁর দাবি, তিনি এসব কনটেন্টের মাধ্যমে এক প্রকার ‘সমাজসেবা’ করে যাচ্ছেন।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে পুনম বলেন, “সারাদিনের কঠোর পরিশ্রম, ব্যস্ততা ও ক্লান্তির পর ঘরে ফিরে কেউ যদি আমার ভিডিও দেখে কিছুটা বিনোদন বা মানসিক স্বস্তি পান, তবে আমি সেটিকে মানুষের পরোক্ষ উপকার হিসেবেই দেখি।”
প্রকাশ্যে সমালোচনা করা ব্যক্তিদের কড়া জবাব দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, যারা সমাজ ও ক্যামেরার সামনে তাঁর কাজের তীব্র নিন্দা জানান, তাঁদের অনেকেই রাতের আঁধারে কিংবা গোপনে এসব ভিডিও গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখেন। মানুষের এই দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে তিনি একেবারেই চিন্তিত নন বলেও সাফ জানিয়ে দেন।
পুনমের এই বক্তব্য সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ তাঁর এই যুক্তিকে চরম বিভ্রান্তিকর ও সস্তা প্রচার পাওয়ার অপকৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার চাতুর্যপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়ে গণমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন এই মডেল। বিশেষ করে ২০২৪ সালে জরায়ুমুখ ক্যানসার নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে নিজের মৃত্যুর ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন পুনম পান্ডে। নতুন এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আবারও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এলেন তিনি।
এস এম সোহাগ ফরাজী।