• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
বাউল অঙ্গনে কাদা ছোড়াছুড়ি ও গ্রুপিং বন্ধের আহ্বান: শৃঙ্খলা রক্ষায় শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারীর জরুরি বিজ্ঞপ্তি এসএমপিতে সেপ্টেম্বর মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমিশনারের কড়া নির্দেশনা, সফল অফিসারদের পুরস্কৃত আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’: কুষ্টিয়ায় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য রক্ষায় নাগরিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত করিমগঞ্জে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে ব/জ্রা/ঘা/তে আপন চাচা-ভাতিজার করুণ মৃ/ত্যু: পরিবারজুড়ে শোকের মাতম গোপনে গোসলরত নারীদের ছবি তোলার অভিযোগ: বানিয়াচংয়ে দুই পক্ষের রণক্ষেত্র, নারী-শিশুসহ আহত অর্ধশতাধিক গানবাজনায় কওমি ছাত্রদের আপত্তি: অনুষ্ঠান স্থগিতের দাবিতে স্মারকলিপি, কনসার্টের কথা অস্বীকার কর্তৃপক্ষের নবীগঞ্জে কিশোরী জুবাকে ধ-র্ষ-ণে-র পর নৃশংস হ-ত্যা: ২ আসামির ফাঁ-সি-র আদেশ, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড পদ্মায় নৌকাডুবি: ৮০ মিনিট ভেসে থাকা ২০ দিনের শিশুকে উদ্ধার করে কোলে নিল বিজিবি, অলৌকিক জীবন ফিরে পেল তানিশা মদিনার ঐতিহাসিক মসজিদে কুবায় বাউল শিল্পী পুতুল দেওয়ান: জানালেন আত্মিক অনুভূতি ইলিয়াস ভুল মানুষকে নিয়ে কল্পকাহিনী বানাচ্ছে’: কুয়েতি রাষ্ট্রদূত ও ভাইরাল ছবি নিয়ে মুখ খুললেন মেঘনা আলম

মৃ-ত্যু-র আগেই নিজেদের চল্লিশার আয়োজন: ৫ হাজার মানুষকে রাজকীয় ভূরিভোজ করালেন কিশোরগঞ্জের দম্পতি

শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী / ৫০ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

মৃত্যুর আগেই নিজেদের চল্লিশার আয়োজন: ৫ হাজার মানুষকে রাজকীয় ভূরিভোজ করালেন কিশোরগঞ্জের দম্পতি

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ: মৃত্যুর পর স্বজনরা চল্লিশার আয়োজন করবেন—এমন চিরাচরিত প্রথা ভেঙে জীবিত থাকতেই নিজেদের চল্লিশার আয়োজন করে নজির সৃষ্টি করলেন কিশোরগঞ্জের এক প্রবীণ দম্পতি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারি ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে প্রায় ৫ হাজার অসহায়, নিম্নআয়ের মানুষ ও এলাকাবাসীর জন্য বিশাল এই ভূরিভোজের আয়োজন করেন মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫)।

স্কুল মাঠে বিশাল সামিয়ানা ও রাজকীয় মেন্যু

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ভোজের আয়োজন চলে। অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য মাঠজুড়ে বিশাল সামিয়ানা টাঙিয়ে চেয়ার-টেবিলের পরিপাটি ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ জন বসে খাওয়ার মতো পরিবেশ ছিল।

ভোজের মেন্যুতে রাখা হয়েছিল সুস্বাদু গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল এবং ঐতিহ্যবাহী পায়েস। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে এই ভোজে অংশ নেন।

ব্যতিক্রমী আয়োজনের নেপথ্য কারণ

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের কারণ জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর দুই সন্তানই বাকপ্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে তাঁর বা তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তানরা হয়তো আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ডেকে সঠিকভাবে চল্লিশার আয়োজন করতে পারবে না—এমন চিন্তা থেকেই জীবিত থাকতেই নিজ হাতে মানুষের জন্য এ ভোজের ব্যবস্থা করেছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, “আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের নিয়তেই আমি বেঁচে থাকতে সবাইকে একবেলা খাইয়ে যেতে চেয়েছি।”

তিনি আরও জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নিজের জমি ও দোকান অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওয়া অর্থ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে তিনি এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন।

এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, “আমাদের অঞ্চলে এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক আয়োজন আগে কখনো দেখা যায়নি। কোনো ধরনের ভেদাভেদ ছাড়া হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে বসে তৃপ্তিভরে খেয়েছেন।”

জীবিত অবস্থায় নিজেদের চল্লিশার দাওয়াত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার পর থেকেই পুরো হোসেনপুর উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় বিষয়টি দারুণ কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd