ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘর্ষ: ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, স্টাফ রিপোর্টার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘাত ও লাঠিচার্জের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও পদক্ষেপ
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে জেলা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্সের মূল ফটক ও অভ্যন্তরীণ চত্বরে সার্বিক দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির দায়ে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্র ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও উচ্চশব্দে গান বাজানো চলতে থাকে।
এ সময় উচ্চশব্দের কারণে পরীক্ষার পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে জানিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা