আখাউড়ায় কেল্লা বাবার মাজারের ওরসের দানবাক্সে মিলল ১২ বস্তা টাকা: বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা
স্টাফ রিপোর্টার /
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হযরত শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার বার্ষিক ওরসে স্থাপন করা দানবাক্সগুলো খুলে পাওয়া গেছে নগদ ১২ বস্তা টাকা। নগদ বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মিলেছে।
গত ১০ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৬ আগস্ট (রোববার) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী এ ঐতিহাসিক ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয়।
৪টি দানবাক্স থেকে ১২ বস্তা টাকা, অর্ধশত মানুষের গণনা
মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ওরস উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণে স্থাপিত ৪টি দানবাক্সে দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো ভক্ত ও আশেকানরা নগদ অর্থ, সোনা-রুপা এবং বিদেশি মুদ্রা দান করেন।
সোমবার সকালে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দানবাক্সগুলো খোলা হলে ১২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। এরপর সোনালী ব্যাংকের ১৬ জন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এবং মাজার শরীফ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়।
টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি ওরস উপলক্ষে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ দানকৃত যাবতীয় সামগ্রী মাজার কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জিম্মায় রাখা হয়েছে।
গণনা শেষে চূড়ান্ত ঘোষণার প্রস্তুতি
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টু জানান:
“সাত দিনব্যাপী ওরসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের বাইরে থেকে লাখ লাখ ভক্ত-আশেকান কেল্লা বাবার মাজারে সমবেত হয়েছিলেন। তাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য ও দানের নগদ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা নিয়মতান্ত্রিকভাবে গণনা করা হচ্ছে।”
মাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান:
“টাকা গণনার কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরাপত্তার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সম্পূর্ণ গণনা শেষ হলে মোট প্রাপ্ত নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর সার্বিক হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা