সংসদে প্রথম বক্তব্য, ‘মজলুমের সংসদ’ নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ডা. মাহমুদা মিতু এমপির
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি বলেছেন, গতকাল ছিল তাঁর সংসদে প্রথম বক্তব্য এবং স্বাভাবিকভাবেই দিনটি তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের অনেক মানুষ নানা ধরনের ত্যাগ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সংসদে ভাইহারা বোন, স্বামীহারা স্ত্রী, পিতৃহারা সন্তান এবং মৃত্যুদণ্ডের মঞ্চ থেকে ফিরে আসা মানুষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এই সংসদ শহীদের রক্তের সংসদ।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদে জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তরুণ নেতৃত্ব যেমন রয়েছেন, তেমনি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণ রাজনীতিবিদরাও রয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. মিতু বলেন, রাজনীতি কোনো সহজ-সরল পথ নয়। এখানে ত্যাগ, ঝুঁকি ও সংগ্রাম রয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক জীবনে জয়-পরাজয় থাকলেও সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটে না। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে আসার অভিজ্ঞতা যদি এক কথায় বলতে হয়, তাহলে বলব— বহুদিন সেই শান্তির ঘুমটা আর ঘুমাই না।”
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্দোলনের কিছু ব্যর্থতা থাকলেও অন্যতম বড় সাফল্য হলো দেশের জন্য যুক্তি, তর্ক ও নীতিগত বিতর্কের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া।
প্রথম দিনের সংসদীয় অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার দলের মহাসচিব, মন্ত্রী, চিফ হুইপসহ বিভিন্ন সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি বিএনপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও ফোন পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একই দিনে নুসরাতও একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে নীতিনির্ভর বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
সমালোচকদের উদ্দেশে ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, যারা প্রতিনিয়ত তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা অসম্মানজনক প্রচারণা চালান, তাদের প্রতি কখনও রাগ, কখনও করুণা অনুভব করেন। তবে তাদের কর্মকাণ্ডই তাঁকে আরও দৃঢ় হতে সহায়তা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “এটা ১৭ বছর পরের বাংলাদেশ। অনেক প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ। এটাকে পুরোনো দিনে ফিরিয়ে নিয়েন না। এর ফল ভালো হবে না, হয় না।”