নয়াদিল্লিতে ২১ নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: ডিসেম্বরে পুনর্গঠন ও পুতুলকে রাজনীতিতে আনার গুঞ্জন, আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা
আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক ডেস্ক / ঢাকা ও নয়াদিল্লি: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ২১ নেতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে দিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে দলটির ঘনিষ্ঠ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই প্রথম দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার এমন সরাসরি মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হলো।
সরাসরি ও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে নেতাদের অংশগ্রহণ
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে দিল্লির একটি সুরক্ষিত ভবনে এ আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত ২১ জন নেতার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সম্পাদকমণ্ডলীর বেশ কয়েকজন নেতা ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন।
এছাড়া বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে না থাকলেও ভবিষ্যতে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন—এমন কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বও এ বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন।
দেশে ফেরা ও আইনি লড়াইয়ের কৌশল
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সামগ্রিক সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটানো এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং দেশে ফিরলে সম্ভাব্য নানামুখী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কৌশলটি শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে আলোচনায় স্থান পায়।
এর আগে শেখ হাসিনা দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশে ফিরে নিয়মতান্ত্রিক আইনি মোকাবিলা ও আদালতে হাজির হওয়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে সেই প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ মতবিনিময় হয়।
ডিসেম্বরে সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও পুতুলের রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন
দলীয় সূত্রের বরাতে আরও জানা যায়, আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানো এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের রূপরেখা নিয়েও বিশদ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আলোচনায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সক্রিয় রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি। সম্প্রতি তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এরপর থেকেই তাঁকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
এছাড়া বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম (সভাপতিমণ্ডলী) শূন্য পদগুলোতে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের প্রভাবশালী দুই নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি দলটি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নেতাকর্মীদের ওপর একাধিক মামলার খড়্গ থাকার প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির এই বৈঠক দলটির অভ্যন্তরীণ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন করে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী