সব বাধা উপেক্ষা করে বিয়ানীবাজারে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত: সোনাই নদীর দুই তীরে লাখো মানুষের ঢল
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি: নানা আপত্তি ও সামাজিক বাধার শঙ্কা কাটিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের সোনাই নদীতে উৎসবমুখর পরিবেশে এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। আবহমান বাংলার এ ঐতিহ্য উপভোগ করতে দুপুর থেকেই নদীর দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় জমে ওঠে।
বাধা, বিতর্ক ও সমঝোতা বৈঠক
লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি পক্ষ ফেসবুকে পোস্ট ও বারিগ্রাম বাজার মসজিদে সভা করে প্রতিযোগিতাটি বন্ধের দাবি জানায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২২ আগস্ট উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এ বছর নৌকাবাইচ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবে মুখর সোনাই নদীর তীর
বিতর্ক ও বাধার কারণে এ আয়োজনটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ায় সিলেটসহ দূরদূরান্ত থেকেও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী জড়ো হন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নদী তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন ছিল বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।
বিকেলে রঙিন সাজে সজ্জিত নৌকাগুলো নদীতে নামলে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’সহ বাহারি নামের নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। মাঝিমাল্লাদের বৈঠার ছন্দ আর ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’ গানের সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
পুরস্কার বিতরণ ও প্রতিক্রিয়া
প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, “সকল বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে উৎসবের আমেজে নৌকাবাইচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জমায়েত প্রমাণ করে মানুষ বাংলার সংস্কৃতিকে কতটা ভালোবাসে। ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্য অব্যাহত থাকবে কি না, তা স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন।”