মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার শিক্ষক আরিফুল আর নেই: ২১ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, স্টাফ রিপোর্টার: মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত হামলার শিকার কলেজশিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম (৩৫) আর বেঁচে নেই। টানা ২১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে নিজের সদ্যোজাত সন্তানের মুখটিও দেখে যেতে পারেননি এই প্রতিবাদী শিক্ষক।
বর্বরোচিত হামলার পটভূমি
নিহত আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সর্বনাশা মাদক কারবার ও অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আরিফুল ইসলাম। তিনি সরাসরি মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ি চক্রটিকে সতর্ক করেন। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে জুয়াড়ি চক্রের প্রধান রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা তাঁর পথরোধ করে। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আরিফুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাথায় উপর্যুপরি কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়।
চিকিৎসা, মামলার অগ্রগতি ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ
স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে দীর্ঘ ২১ দিন কোমায় থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে চালানো এ হামলার ঘটনায় আদিতমারী থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব অভিযান চালিয়ে গত ১৩ আগস্ট ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত রহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।
শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিজ এলাকা আদিতমারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।