মাজার ও ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ: ফরিদপুরের ‘সুমন পাগল’-এর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ
অপরাধ ডেস্ক: মাথায় পাগড়ি, মুখে দাড়ি ও ধর্মীয় ভাবমূর্তির আড়ালে নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিয়ে, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মো. তানভীর আহমেদ ওরফে ‘সুমন পাগল’-এর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মাদক কারবারে বাধ্য করার চেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও বিচার দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্ত তানভীর সুমন ফরিদপুর সদর থানার কমলাপুর কোঠিপাড়ার বাসিন্দা মৃত হাসিমের ছেলে।
অভিযোগের বিস্তারিত ও একাধিক বিয়ের তথ্য
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নিজেকে তরীকাপন্থী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দরবার ও অলি-আল্লাহর মাজারে নিয়মিত যাতায়াত করতেন তানভীর সুমন। সেই সুবাদে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদের অর্থনৈতিক ও পারিবারিক দুর্বলতার সুযোগ নিতেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিভিন্ন মানুষকে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল করে এ পর্যন্ত অন্তত ৪টি বিয়ে করেছেন। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
তানভীরের দ্বিতীয় স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার জানান, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে হোসাইন নামের ৭ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর স্বর্ণা জানতে পারেন, সুমনের প্রথম স্ত্রীর ঘরেও একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।
মাদক কারবারে চাপ ও পারিবারিক নির্যাতন
স্বর্ণা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর সুমন তাঁকে দিয়ে মাদক কেনাবেচা করানোর চেষ্টা চালান। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর দফায় দফায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
স্বর্ণার মা জানান, “মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে শুরুতে আপত্তি থাকলেও পরে বিয়ে মেনে নিয়েছিলাম। ঘরে ৬০ হাজার টাকার আসবাবপত্রও কিনে দিয়েছিলাম। কিন্তু সুমনের এমন প্রতারক চরিত্র আগে বুঝতে পারিনি।” তিনি প্রশাসনের কাছে তানভীর সুমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যাতে আর কোনো নারীকে এমন প্রতারণার শিকার হতে না হয়।
সচেতনতার আহ্বান
দ্বিতীয় স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার বলেন, “আমি চাই সে যেন সঠিক পথে ফিরে আসে এবং সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়। পাশাপাশি দরবার ও তরীকাপন্থী ভাই-বোনদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন ধর্মীয় লেবাসধারী এমন প্রতারকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকেন।”
দৈনিক জীবনযাত্রা -সত্যের সন্ধানে মানুষের পাশে