সিলেটের জৈন্তাপুরে পান-সুপারির মালায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে বরণ করল শিক্ষার্থীরা
দৈনিক জীবনযাত্রা (সিলেট প্রতিনিধি) শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী।
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে পান-সুপারির মালা পরিয়ে ব্যতিক্রমী বরণ করে নিয়েছে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী খাসিয়া সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় এ এক প্রীতিময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, উক্ত বিদ্যালয়টির প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীই খাসিয়া সম্প্রদায় ও স্থানীয় চা শ্রমিক পরিবারের সন্তান।
পাঠদান পর্যবেক্ষণ ও ভবন নির্মাণের আশ্বাস
বিদ্যালয় চত্বরে পৌঁছানোর পর প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন শ্রেণীকক্ষ ঘুরে দেখেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিশুদের শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা বিদ্যালয়ে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জোরালো দাবি জানান। তাদের দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবন নির্মাণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।
“জিডিপির ৫ শতাংশ বাজেটের লক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত রূপান্তর”
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “শিক্ষাখাতে সরকারি বরাদ্দ ও বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হবে। আমরা সার্বিক শিক্ষার বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। পরিকাঠামো অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রযুক্তি—শিক্ষার যেখানেই সংস্কার ও পরিবর্তন প্রয়োজন, সেখানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে নতুন করে কোনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের পরিকল্পনা সরকারের নেই, তবে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালা ও সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও দেশব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজিতে প্রাথমিক মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণীকক্ষভিত্তিক মূল্যায়ন ও ফাউন্ডেশনাল লার্নিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে দেশব্যাপী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।”
দিনব্যাপী এই সফরে তিনি মোকামপুঞ্জি ও তেলিজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জৈন্তাপুরের আরও কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াৎ এরশেদ, সহকারী পরিচালক (ট্রেনিং) আব্দুল আলীম, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, কানাইঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মনিরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক আল আমিন মীর, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জুলহাস, প্রধান শিক্ষক আজমল আলী এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ইমাম উদ্দিনসহ স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী।।