পরীক্ষা শেষে আর বাড়ি ফেরা হলো না জকিগঞ্জের রাজনের: রেললাইনের পাশে মিলল লাশ, পরিচয় মিলল ফেসবুকে!
জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি | শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী। দৈনিক জীবনযাত্রা:
ঢাকা থেকে স্বপ্নের চাকরির পরীক্ষা শেষে সিলেট নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া মাহবুব সারওয়ার রাজন (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার (১২ জুলাই) হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে থানা পুলিশ নিথর দেহটি উদ্ধার করে। নিহত রাজন সিলেটের জকিগঞ্জ পৌর এলাকার গন্ধদত্ত গ্রামের বাসিন্দা বলে পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
একটি সরকারি বা বেসরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাজনের এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারসহ পুরো জকিগঞ্জ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঢাকা থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ ও স্বজনদের উদ্বেগ
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজন একটি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে গত সপ্তাহে ঢাকায় গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ঢাকার একটি আন্তঃনগর ট্রেনযোগে তিনি সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি বাড়িতে না পৌঁছানো এবং তাঁর সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়ায় পরিবার চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মিলছিল না।
ফেসবুকের মাধ্যমে মিলল লাশের সন্ধান
নিখোঁজ রাজনের সন্ধান চেয়ে গতকাল রোববার সকাল থেকেই তাঁর ভাইয়েরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট দিতে থাকেন। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে ফেসবুকেরই একটি স্থানীয় গ্রুপে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবকের রক্তাক্ত লাশের ছবি দেখতে পান তাঁরা। সেই ছবি দেখে ভাইয়েরা নিশ্চিত হন যে, এটিই তাঁদের নিখোঁজ ভাই রাজনের মরদেহ।
ফেসবুকের ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছিল, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকায় রেললাইনের পাশে অজ্ঞাত অবস্থায় লাশটি পড়েছিল এবং স্থানীয় পথচারীরা পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ছবি পোস্ট করে সবার সহযোগিতা চেয়েছিলেন।
ছিনতাইকারী বা মলম পার্টির খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের ক্রন্দনরত পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যে শায়েস্তাগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। তবে স্থানীয় সূত্রে প্রবল ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় রাজন চলন্ত ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বা বগিতে কোনো ছিনতাইকারী বা অজ্ঞান পার্টি-মলম পার্টির খপ্পরে পড়তে পারেন। ছিনতাইকারীরা তাঁর মোবাইল, টাকা-পয়সাসহ সবকিছু লুটে নিয়ে তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দিয়ে থাকতে পারে। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং গভীর তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এই তরুণ যুবকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে জকিগঞ্জের গন্ধদত্ত গ্রামজুড়ে বইছে শোকের মাতম। রাজনের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী