শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগের সিলগালা খুলে তিন দিনের দানে পাওয়া গেল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার
সিলেট প্রতিনিধি: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী
সিলেটের বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বিদায়ের আগ মুহূর্তে আবারও হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার শরীফে আসেন। জোহরের নামাজ আদায় শেষে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি মাজারের ডেগের সিলগালা খুলে দেন।
পরে ডেগের ভেতরে মাজার জিয়ারতে আসা ভক্তদের মানত ও দানের টাকা জনসম্মুখে দরগাহ মাদ্রাসার ছাত্রদের মাধ্যমে গণনা করা হয়। গণনা শেষে তিন দিনের রক্ষিত দানের মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এছাড়া ডেগ থেকে প্রায় ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়।
ডেগের টাকা গণনার সময় চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলেন আনসার ভিডিপি সদস্য ও জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা।
এ সময় ডেগের ভেতর থেকে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্দেশ্যে লেখা একটি ব্যতিক্রমী চিঠিও পাওয়া যায়। চিঠিতে লেখা ছিল—
“ডিসি সাহেব,
আসসালামু আলাইকুম। শাহজালাল মাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটসহ সারা দেশে এমনকি বিদেশে অবস্থানরত লোকজন আপনার শুধু প্রশংসাই করছেন না, শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ আপনার পক্ষেই আছেন। সবচেয়ে বড় লুটপাটকারী হচ্ছে দরগার কেরানী শামুন মাহমুদ খান। অর্ধেক টাকাই সে মেরে দেয়। সে কেরানী হয়েও বড়াই করে বলে সে নাকি খাদিম। এ সবই মিথ্যা। পড়াশোনা করেছে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। এখন লম্বা-লম্বা কথা বলে। দরগার জায়গায় বাড়ি করেছে, দোকানপাট করেছে। এ সমস্ত জায়গা উদ্ধার করা একান্ত প্রয়োজন। দয়া করে দেখবেন, তাকে নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। সেই মূল হোতা।
— একজন শুভাকাঙ্ক্ষী”
এদিকে, বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের প্রতিবাদ জানিয়ে সিলেটের বিভিন্ন স্তরের মানুষ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ এবং সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
উল্লেখ্য, চিঠিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত বক্তব্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।