চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে রাজধানীতে ফ্ল্যাটে আটকে রাখা ১২ নারী উদ্ধার: উত্তরা ও ভাটারায় এসআরবি-১-এর সাঁড়াশি অভিযান
রাজধানী প্রতিবেদক:
চীনে উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আটকে রাখা ১২ নারীকে উদ্ধার করেছে এসআরবি-১। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) উত্তরাস্থ এসআরবি-১-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর অধিনায়ক সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
উদ্ধারকৃত নারীদের কোনো পাসপোর্ট বা বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র ছিল না। তাঁদের গোপনে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রলোভন ও চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম থেকে নিখোঁজ তরুণীর সূত্র ধরে প্রথম অভিযান:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ এক নারী ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য আবেদন পায় এসআরবি-১। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নামে এসআরবি-১-এর সিপিসি-২-এর একটি চৌকস দল।
একই দিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন জমজম টাওয়ার সংলগ্ন একটি এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে নিখোঁজ তরুণীসহ মোট দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
ভাটারা এলাকায় মধ্যরাতে অভিযান ও আরও ১০ নারী উদ্ধার:
উত্তরায় উদ্ধার হওয়া দুই নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের মূল আস্তানার সন্ধান মেলে। পরে ২৬ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে শুরু করে ২৭ অক্টোবর রাত ১টা পর্যন্ত রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় টানা সাঁড়াশি অভিযান চালায় আভিযানিক দল। অভিযানে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে বন্দি অবস্থায় থাকা আরও ১০ নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ ও বন্দিদশায় নির্যাতন:
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া নারীরা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র চীনে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরি ও নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁদের ঢাকায় নিয়ে আসে। তবে ঢাকায় আনার পর কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট ছাড়াই তাঁদের একটি বাসায় আটকে রাখা হয়।
এ সময় তাঁদের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একই সঙ্গে চক্রটি তাঁদের বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত করার চেষ্টাও চালিয়ে আসছিল বলে জানা গেছে।
আইনি ব্যবস্থা ও পরিবারে হস্তান্তর:
এসআরবি-১-এর অধিনায়ক জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উদ্ধার হওয়া ১২ জন নারীকে নিরাপদে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভয়ানক এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
এস এম সোহাগ ফরাজী