মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার: ৬ জেলে গ্রেপ্তার, ৪ লাখ ৪৩ হাজার মিটার জাল ও ৩টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ
স্টাফ রিপোর্টার:
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে অবাধে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৬ জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ৩টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা এবং প্রায় ৪ লাখ ৪৩ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ২০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের আওতাধীন বড়খেরী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর চর আবদুল্লাহ ও চর আলেকজান্ডার সংলগ্ন এলাকায় এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
নিষিদ্ধ সময়ে মৎস্য আহরণ ও হাতেনাতে গ্রেপ্তার:
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়ন এবং প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীর বিভিন্ন মোহনায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আজ দুপুরে বড়খেরী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সঙ্গীয় ফোর্সের নেতৃত্বে চর আবদুল্লাহ ও চর আলেকজান্ডারসহ পার্শ্ববর্তী মেঘনা নদীর জলসীমায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইঞ্জিনচালিত কাঠের তৈরি নৌকায় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করার সময় হাতেনাতে ৬ জন জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় ধৃত আসামিদের কাছ থেকে মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত ৩টি ইঞ্জিনচালিত পুরাতন কাঠের নৌকা এবং ৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
আইনি ব্যবস্থা ও জাল পুড়িয়ে ধ্বংস:
গ্রেপ্তারকৃত ৬ জেলের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত ২০১৩)-এর সুনির্দিষ্ট ধারায় ৩টি পৃথক নিয়মিত মামলা রুজু করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, নদীজুড়ে পরিচালিত এই দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে বেওয়ারিশ ও লুকানো অবস্থায় থাকা আনুমানিক আরও ৪ লাখ ৪০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং প্রায় ২০ কেজি তাজা ইলিশ মাছ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে রামগতি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ও নির্দেশনায় উদ্ধারকৃত সমুদয় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল নদীর তীরে স্থানীয় লোকজনের সামনে আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট ও ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া জব্দকৃত ২০ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় দরিদ্র, অসহায় পরিবার এবং পাশ্ববর্তী এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ও জাতীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নৌ পুলিশের এ কঠোর নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে নৌ পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী