সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশের জেরে উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের অভিযোগ: নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজপথে জাতীয় নারীশক্তি ও নেতৃবৃন্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সরকারের নীতিমালার সমালোচনা করার দায়ে নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আখতার হোসেনসহ রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নাগরিক ও উদ্যোক্তাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে গ্রেপ্তার করা মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অনতিবিলম্বে সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তাঁরা।
শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ ও সংহতি:
মানববন্ধনে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী ও নারী অধিকারকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন—
মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আখতার হোসেন,
বিশিষ্ট অ্যাক্টিভিস্ট মাহমুদা মিতু, এবং
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ নুসরাত তাবাসসুম।
এ ছাড়া সংহতি জানিয়ে রাজপথে অবস্থান নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য হুমায়রা নূর, মনজিলা ঝুমা, সাঈদা জান্নাত ও আশরেফা খাতুন।
কর্মসূচিতে ‘জাতীয় নারীশক্তি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন নারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাত্মতা পোষণ করে অংশ নেন।
বক্তাদের বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি:
মানববন্ধনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, “একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনাকে ভয় পাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কোনো নাগরিক বা নারী উদ্যোক্তা সামাজিক মাধ্যমে নিজের মতামত ব্যক্ত করার কারণে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নের শিকার হবেন—তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ধরনের পদক্ষেপ নাগরিকদের কণ্ঠরোধের শামিল।”
জাতীয় নারীশক্তি ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাথী আক্তারের সসম্মানে মুক্তি দাবি করে বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ভয়ের সংস্কৃতি আর পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না। উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে দ্রুত মুক্তি না দেওয়া হলে দেশের সচেতন নারী সমাজ ও নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী