বালাগঞ্জে জমি বিক্রির পাওনা ১২ লাখ টাকা চাওয়ায় ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা খুন: ভাই রক্তাক্ত, অভিযুক্ত পলাতক
সিলেট প্রতিনিধি (শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী):
সিলেটের বালাগঞ্জে জমি বিক্রির পাওনা ১২ লাখ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন চাচা আবুল মিয়া (৬৫)। একই ঘটনায় হামলাকারী ভাতিজার দায়ের কোপে নিহতের ভাই আব্দুল কাদির গুরুতর জখম হয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মুসলিমাবাদ ডেকাপুর গ্রামে রক্তক্ষয়ী এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল মিয়া এবং অভিযুক্ত ভাতিজা টিটু মিয়া একই বাড়ির বাসিন্দা। টিটু ওই গ্রামের আব্দুল হক ফরিদ মিয়ার ছেলে। নিহত আবুল মিয়ার চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।
টাকা নিয়ে বিরোধ ও বর্বরোচিত হামলা:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল মিয়া ও তাঁর ভাই আব্দুল কাদিরের সঙ্গে ভাতিজা টিটু মিয়ার জমি বিক্রির ১২ লাখ টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও টিটু তা পরিশোধ করেননি। এমনকি পাওনা না মিটিয়ে উল্টো ওই জমিতে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি।
রোববার রাতে পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে চাচা-ভাতিজার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে টিটু ধারালো ছুরি দিয়ে চাচা আবুল মিয়ার বুকে সরাসরি আঘাত করেন। এ সময় আবুল মিয়ার ভাই আব্দুল কাদির এগিয়ে এলে তাঁকেও দা দিয়ে কুপিয়ে মাথা ও হাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত আব্দুল কাদিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
১৬ বছরের পুরোনো প্রতারণার নেপথ্য:
স্থানীয়রা জানান, আবুল মিয়া ও আব্দুল কাদিরসহ ছয় ভাই দুটি পৃথক বাড়িতে বসবাস করেন। প্রায় ১৬ বছর আগে টিটু নিজের বসতভিটা চাচা আবুল মিয়া ও আব্দুল কাদিরের কাছে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। চাচারা সরল বিশ্বাসে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করলেও টিটু জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। সেই টাকা দিয়ে তিনি মামার বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কচুয়াবহর গ্রামে বাড়ি কেনেন এবং ভাই মিটুকে গ্রিসে পাঠান। এক বছর পর সেই বাড়ি বিক্রি করে আবারও পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পূর্বের জমি সমমূল্যে ফেরত নেওয়ার দাবি জানান। চাচারা মানবিক কারণে রাজি হয়ে তাঁকে বসবাস করতে দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চাচাদের সেই ১২ লাখ টাকা ফেরত দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেন টিটু।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল কাদির অভিযোগ করে বলেন, “১৫ বছর আগে বসতবাড়ির জায়গা বিক্রি করলেও আজ পর্যন্ত আমাদের টাকা ফেরত দেয়নি টিটু। সে এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মতো চলাফেরা করত। টাকা চাইতে গেলেই উল্টো আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। সে আমার ভাইকে হত্যা করেছে এবং আমাকেও কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল। ঘটনার সময় গ্রামের কনর মিয়ার ছেলে হাসান টিটুকে না থামিয়ে উল্টো উসকানি দিয়েছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
পুলিশের বক্তব্য:
বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ তরফদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পরই ঘাতক টিটু এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী