শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা এখনই ভাগ হচ্ছে না: সব অর্থ থাকবে ব্যাংকে, ৫ম দফা গণনা শুরু
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের পুণ্যভূমি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে ভক্তদের দেওয়া অর্থ বণ্টনের যে ৩৫ ও ৬৫ শতাংশের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত সংগৃহীত সব অর্থই ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ৫ম বারের মতো জনসমক্ষে মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগে পাওয়া অর্থ গণনা কার্যক্রম শুরুকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাজার আর্থিক ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ গণনা শুরু হয়।
আপাতত ব্যাংকেই সব টাকা:
টাকা বণ্টন নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “আজকের গণনায় শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ আগের মতোই সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে। সেখান থেকে কেবল বিদ্যুৎ বিলসহ জরুরি কিছু ইউটিলিটি বিল এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের বেতন পরিশোধ করা হবে। মাজারের জন্য ম্যানেজার, অ্যাকাউন্টেন্ট এবং কম্পিউটার অপারেটর—এই তিন পদে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল ৬৫ শতাংশ টাকা দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন পরিচালনা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও অন্তত এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে। নিয়মিত লোকবল যুক্ত হলে প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিনই গণনা করা হবে। তবে সেই পূর্ণাঙ্গ কাঠামো দাঁড়ানোর আগে হয়তো আমাদের এই ব্যবস্থাপনায় আরও একবার গণনার প্রয়োজন হতে পারে।”
টাকা বণ্টনের অনুপাত নিয়ে সমালোচনার জবাবে জেলা প্রশাসক জানান, উচ্চ পর্যায়ের কমিটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ একটি ঐতিহ্যবাহী বড় মাজারের সার্বিক পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়।
কমিটির সিদ্ধান্ত ও পূর্বাপর প্রেক্ষাপট:
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত মাজার আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, দানের মোট অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের জন্য জেলা প্রশাসক ও মোতোয়াল্লির যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা থাকবে। বাকি ৬৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হবে মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায়।
একই সঙ্গে জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক ও মাজারের মোতোয়াল্লিকে সদস্যসচিব করে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এসএমপি, জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি স্থায়ী পরিচালনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়।
উল্লেখ্য, মাজারের দানবাক্স ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানামুখী আলোচনার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে গত ১৮ জুন পুরোনো বাক্স ও ডেগ সিলগালা করে স্বচ্ছ কাচের নতুন দানবাক্স বসানো হয়। পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি বিষয়টির পূর্ণ তদারকি নেয়।
চার দফায় সংগ্রহ সোয়া দুই কোটি ছাড়ায়:
এর আগে চার দফায় মাজারের অর্থ জনসমক্ষে গণনা করা হয়েছিল:
প্রথম দফা (২২ জুন): ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা (জেলা প্রশাসনের তহবিলসহ মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা)।
দ্বিতীয় দফা (১১ জুলাই): ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা।
তৃতীয় দফা (১৫ আগস্ট): ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা।
চতুর্থ দফা (১৯ সেপ্টেম্বর): ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা।
১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম চার দফায় সর্বমোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা জমা পড়েছিল। আজ পঞ্চম দফার গণনা শেষ হলে প্রাপ্ত মোট নগদ অর্থ ও সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে জেলা প্রশাসন।
এস এম সোহাগ ফরাজী