গোয়াইনঘাটে নিহত যুবদল নেতা বদরুল আলমের বাড়িতে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী: অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিশ্ছিদ্র চার্জশিটের কঠোর নির্দেশ
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার স্থানীয় যুবদল নেতা বদরুল আলমের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালতের বিচারে অপরাধীরা যাতে কোনো আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে রেহাই না পায়, সে জন্য শুরু থেকেই নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণনির্ভর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুতের কড়া তাগিদ দেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে নিহত বদরুল আলমের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সান্ত্বনা দেন এবং নিহতের পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে আজীবন পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
প্রশাসনকে কঠোর বার্তা ও নিশ্ছিদ্র তদন্তের নির্দেশ:
পরিদর্শনকালে উপস্থিত পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্ত থেকে শুরু করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে দায়িত্বশীলদের শতভাগ সতর্ক থাকতে হবে।”
তদন্তে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, “তদন্ত প্রক্রিয়ায় এমন কোনো দুর্বলতা বা ফাঁকফোকর রাখা যাবে না, যার সুযোগ নিয়ে আসামিরা আইনের হাত থেকে পার পেয়ে যেতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুততম সময়ে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে সংগৃহীত আলামত সুরক্ষিত রাখতে হবে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে শতভাগ ন্যায়বিচার পায়, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী, গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল, গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব, রুস্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউনুছ আলী, সহসভাপতি আব্দুল গনি এবং সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বর্বর সেই রাতের রোমহর্ষক ঘটনা:
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বদরুল আলম ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার সাদেক আহমদ মোটরসাইকেলে করে স্থানীয় মনরতল বাজারে গবাদিপশু ব্যবসার উদ্দেশ্যে যান। লেনদেন শেষে নগদ ৩০ লাখ টাকা এবং ক্রয়কৃত ২৯টি গরু নিয়ে ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা।
পথিমধ্যে গুরাগ্রামের দীঘি সংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছামাত্র রুস্তমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রামের ময়বুর রহমানের ছেলে শাহীন আহমদ ও মামুন মিয়া এবং উপরগ্রামের আব্দুস শহিদ আহমদের ছেলে নোমান আহমদের নেতৃত্বে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তাঁদের গতিরোধ করে।
হামলাকারীরা কোনো কথা না বলেই রামদা ও ছোরা দিয়ে বদরুল ও সাদেককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং নগদ ৩০ লাখ টাকাসহ ২৯টি গরু ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীরা দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে স্থানীয় পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়া অপর ব্যবসায়ী সাদেক আহমদ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী