‘ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ চাই না, নাগরিক হিসেবে নিজেদের ভাবুন’: ওসমানীনগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এমপি তাহসিনা রুশদী লুনা
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনা বলেছেন, “আমি চাই, এ দেশে ধর্মের ভিত্তিতে যেন কোনো বিভেদ তৈরি না হয়। যার যার ধর্ম সে স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালন করবে। আপনারা নিজেদের কখনো সংখ্যালঘু মনে করবেন না, বরং এ দেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে ভাবুন। সমঅধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে আপনারা আমাদের মতোই সব সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার নির্বিঘ্নে ভোগ করবেন।”
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সিদ্ধেশ্বরী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তাহসিনা রুশদী লুনা বলেন, নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের সংকট বা বৈষম্য না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে ও দুঃসময়ে আমরা যেমন পাশে থাকব, আমাদের প্রয়োজনেও আপনারা পাশে থাকবেন। যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে সরাসরি আমাদের জানাবেন, আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।”
মন্দির সংলগ্ন অসমাপ্ত সড়ক সংস্কারের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই মন্দিরে এসে রাস্তাটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু অংশের উন্নয়নকাজ হলেও অবশিষ্ট অংশ এখনো বাকি রয়েছে। তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আবেদন দাখিলের পরামর্শ দিয়ে বলেন, নতুন সরকারি বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাকি সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং আপনাদের সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিএনপিকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন। জনগণের ভালোবাসায় আমরা সরকার গঠন করেছি। এ জন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ।”
এ সময় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনবান্ধব পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে এমপি জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এবার চালের সরকারি বরাদ্দ ১০০ কেজি বৃদ্ধি করেছেন। পাশাপাশি সনাতন নারীদের মাঝে শাড়ি উপহার বিতরণ করা হয়েছে এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি দুই দিন থেকে বৃদ্ধি করে তিন দিনে উন্নীত করা হয়েছে।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মেরিনা দেবনাথ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান আহমদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজল আহমদ জনি, যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম উদ্দিন ও আকিক চৌধুরী, গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মন্নান বক্সসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দিনব্যাপী ব্যাপক পরিদর্শন কর্মসূচি:
এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় উপজেলার সাদীপুর মৎস্যজীবী সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যের দিনব্যাপী ব্যাপক সফর শুরু হয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় বুরুঙ্গায় সঞ্জিত পালের বাড়ির সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, বিকেল সাড়ে ৪টায় গোয়ালাবাজার কেন্দ্রীয় কালীমন্দির সার্বজনীন পূজামণ্ডপ এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় তেরহাতী সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টায় তাজপুর রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপ, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাজপুর রবিদাস সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, সন্ধ্যা ৭টায় উমরপুরের মাটিহানী পূজামণ্ডপ এবং রাত সাড়ে ৭টায় দয়ামীরের কুরুয়ায় সঞ্জয় দেবের (মাস্টার বাড়ি) সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মাধ্যমে তাঁর সার্বিক কর্মসূচি শেষ হয়। প্রতিটি মণ্ডপেই তিনি পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং ভক্তদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী