সিলেটের গোলাপগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী ২ মাস পর উদ্ধার: কোম্পানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার অপহরণকারী ছাব্বির
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া অষ্টম শ্রেণির এক কিশোরীকে (১৪) প্রায় দুই মাস পর অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)। এ সময় অপহরণের অভিযোগে ছাব্বির হোসেন (২৩) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) রাতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের পারুয়া মাঝপাড়া গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই কিশোরীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এসআরবি-৯ এর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ছাব্বির হোসেন সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানার বাসিন্দা গেন্দু মিয়ার ছেলে।
প্রেমের ফাঁদ ও অপহরণের পটভূমি:
এসআরবি-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোলাপগঞ্জ থানা এলাকার একটি স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ছাব্বির হোসেন। পরবর্তীতে গত আগস্ট মাসে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ফুসলিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে পরিবারের অজান্তে বসতবাড়ি থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়েকে ঘরে না দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোনো হদিস না পেয়ে প্রথমে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে ছাব্বির হোসেন ফুসলিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে গেছে নিশ্চিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত অপহরণ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর অভিভাবক।
এসআরবির ছায়া তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান:
মামলা দায়েরের পর এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জের পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের পারুয়া মাঝপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছাব্বির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভুক্তভোগী কিশোরীকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার ছাব্বির হোসেনকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে এসআরবি। পুলিশ জানিয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী