‘আমেরিকার নাগরিক হলে বাদশার বাপের সাধ্য ছিল ওদের শিরশ্ছেদ করার?!’: সৌদি ইস্যুতে চিত্রনায়িকা মুনমুনের বিস্ফোরক পোস্ট
বিনোদন ডেস্ক:
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন একসময়ের জনপ্রিয় ঢালিউড চিত্রনায়িকা মুনমুন। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ সংগৃহীত লেখা শেয়ার করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ওই পোস্টে মুনমুন উল্লেখ করেন, “প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার অপরাধে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। বাংলাদেশের কনস্যুলেটের দাবি, শিরশ্ছেদের আগে তাদের এ বিষয়ে জানানো হয়নি। একজন মানুষের অপরাধের বিচার হলেও ন্যায্য বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন কি এতটাই মূল্যহীন? আজকে যদি নজরুল আর সিতি আমেরিকার নাগরিক হতো, সৌদি বাদশার বাপের সাধ্য ছিল ওদের শিরশ্ছেদ করার!? 'মিসকিন' দেশের বলে, জানানোরও দরকার মনে করেনি।”
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের নিপীড়নের প্রসঙ্গ টেনে লেখায় উল্লেখ করা হয়, “মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। অসংখ্য নারী নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরেছেন; কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও ফিরেছেন।”
আরব সমাজের কতিপয় দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে ওই পোস্টে দাবি করা হয়, “মদ, নারী, অহংকার, ভোগ-বিলাসিতা—এইগুলোই আরবদের নিত্যদিনের কাজ। যারা ওই দেশে ব্যবসা করতে যায়, তাদের অর্থ লুটে নেয় ওরা। এগুলো ছাড়া আমি আরবদের মধ্যে আর ভালো কিছুই দেখিনি। গোপনে ওই দেশে সবই বৈধ, কিন্তু প্রকাশ্যে করলেই মাথা কাটা যাবে। যারা আরবে থাকেন, তারা আমার কথার সত্যতা জানেন।”
ধর্মীয় আবেগ ও আর্থিক নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, “আমরা প্রতিবছর হজ ও ওমরাহসহ বিভিন্ন কারণে সৌদি আরবে কোটি কোটি ডলার দিয়ে আসি। আর ওই টাকা দিয়ে আরবেরা ফিলিস্তিন ও ইরানের ওপর বোমা ফেলে। নবী মুহাম্মদের দেশ বলে ধর্মের অবমাননা হয় কি না, সেই ভয়ে আপনারা কেউ এই প্রশ্নগুলো তুলছেন না।”
মানবিক মূল্যবোধের আহ্বান জানিয়ে পোস্টের শেষাংশে বলা হয়, “আপনারা দেখছি আসলেই আগে মুসলমান, পরে মানুষ—তাও সবাই না, কেউ কেউ! ধর্মীয় পরিচয়ের আগে মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের জীবন, মর্যাদা ও অধিকারের মূল্য দিতে শিখুন। ধর্মের নামে অমানবিকতাকে বৈধতা দেওয়া যায় না। সৌদি আরবের মতো একটি অমানবিক বর্বর দেশকে বয়কট করুন। আমি অনেক আগেই করেছি, এবার আপনাদের পালা।”
অভিনেত্রী মুনমুনের শেয়ার করা এই সংগৃহীত বক্তব্যটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রবাসীদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষার পক্ষে সহমত জানালেও মধ্যপ্রাচ্যের বিচারব্যবস্থা ও কঠোর আইন নিয়ে কেউ কেউ ভিন্নমতও পোষণ করছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী