কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানায় আগুন: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জেলার কালিয়াকৈরে আরেকটি নামকরা ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার সফিপুর এলাকায় অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কারখানায় এ আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সফিপুর এলাকায় অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ছয়তলা কারখানা ভবনের নিচতলার স্টোররুমে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখতে পান কর্মচারীরা।
কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জরুরি সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট। তারা তাৎক্ষণিকভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। তবে ভেতরে দাহ্য রাসায়নিক ও প্যাকেজিং সরঞ্জাম থাকায় আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে পরবর্তীতে কোনাবাড়ি ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট যুক্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় গাজীপুর চৌরাস্তা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, এর মাত্র তিন দিন আগে গত ১৪ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় এক বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। শিল্পাঞ্চলটিতে পরপর দুটি বৃহৎ ওষুধ কারখানায় এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী