সিলেটে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হৃদয় হত্যা: নরসিংদী থেকে পলাতক ৩ আসামি গ্রেপ্তার, অধরা মূল অভিযুক্ত আমিন
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট মহানগরের কাষ্টঘর এলাকায় স্ত্রীর ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ করায় সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হৃদয় কুমার হরিজন (৩৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে দূরবর্তী জেলা নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। তবে ঘটনার মূল হোতা ও প্রধান অভিযুক্ত আমিন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন পাঁচদোনা মোড় এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এসএমপির একটি বিশেষ দল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে এসএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি ও গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
গ্রেপ্তারকৃতরা ও তাদের অপরাধের রেকর্ড:
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—
১. ইমন আহমেদ (২৬), পিতা আব্দুল হামিদ, গ্রাম নূরপুর, থানা বালাগঞ্জ, জেলা সিলেট।
২. রুমান আহমদ সাজ্জাদ (২৫), পিতা মো. হরুফ আলী মিয়া, গ্রাম বলাউড়া, থানা জালালাবাদ, এসএমপি।
৩. পারভেজ (২২), পিতা নুর মিয়া, গ্রাম সোনাতলা, থানা জালালাবাদ, এসএমপি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রত্যেকেই চিহ্নিত পেশাদার অপরাধী। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পূর্বের একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা ও আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এর মধ্যে ইমন আহমেদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা ও একটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। রুমান আহমদ সাজ্জাদের বিরুদ্ধে চুরির দুটি মামলা ও দুটি ওয়ারেন্ট এবং পারভেজের বিরুদ্ধে চুরির পাঁচটি নিয়মিত মামলা বিচারাধীন।
হত্যার নেপথ্য ঘটনা:
পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গত ১১ অক্টোবর (রবিবার) রাতে কাষ্টঘর এলাকায় হৃদয়ের স্ত্রীর ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মূল অভিযুক্ত আমিনের সঙ্গে হৃদয়ের কথাকাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরের কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সংলগ্ন রাজু স্টোরের বিপরীত পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় হৃদয়কে একা পেয়ে দেশীয় ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে আমিন ও তার সহযোগীরা।
রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদয়কে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বর্বরোচিত ঘটনার পরদিন ১২ অক্টোবর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেলে প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে নরসিংদী থেকে এই তিনজনকে আইনের আওতায় আনা হয়।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। একই সাথে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত আমিনসহ পলাতক অন্য আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী