সিলেটে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় সিসিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: সুইপার কলোনিতে ক্ষোভ
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট মহানগরের কাস্টঘর এলাকায় স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় হৃদয় কুমার হরিজন (৩৫) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নগরের সুইপার কলোনির কাস্টঘর এলাকায় এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় কুমার হরিজন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) একজন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ:
নিহতের ছোট ভাই অজয় কুমার হরিজন ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, “আমিন নামের এক স্থানীয় যুবক আমার ভাবি পিংকী রানীর দিকে ক্যামেরা তাক করে ছবি তুলছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমার ভাই হৃদয় তাৎক্ষণিক বাধা দেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমিন মুঠোফোনে কল দিয়ে তার বখাটে সহযোগীদের ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। এরপর তারা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে আমার ভাইকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছবি তোলা নিয়ে আমিনের সাথে হৃদয়ের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আমিনের পক্ষের আরও কয়েকজন যুবক উপস্থিত হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো ছুরি বের করে হৃদয়ের বুকে ও পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
নিহতের পরিবার ও কলোনির বাসিন্দারা জানান, চার সন্তানের জনক হৃদয় ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো সুইপার কলোনিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া; সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ।
পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধারপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির জানান, “স্ত্রীর ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত মূল অভিযুক্ত আমিনসহ অন্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী