সিলেটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাদমান রহমানের মৃত্যু: ক্যাম্পাসে গভীর শোক
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক মেধাবী শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনের মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাদমান রহমান। তিনি শাবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (প্রথম বর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ী জেলার মধ্য ভবানীপুর এলাকায়। পড়াশোনার সুবাদে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে বসবাস করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষে মোটরসাইকেলযোগে মদিনা মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন সাদমান। পথিমধ্যে তপোবন আবাসিক এলাকার মুখে একটি গতিরোধকে (স্পিড ব্রেকার) পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের আইল্যান্ডে (বিভাজক) প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খায়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে স্থানীয় পথচারী ও সহপাঠীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) আওতাধীন জালালাবাদ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্পিড ব্রেকারের কাছে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দৃশ্যত এটি একটি অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করার পর স্বজনদের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “একজন সম্ভাবনাময় তরুণ শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে সমগ্র শাবিপ্রবি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। দুর্ঘটনার পরপরই তাঁর রাজবাড়ীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মরদেহবাহী ফ্রিজিং গাড়ির সঙ্গে দুই সহপাঠীকে দিয়ে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।”
তরুণ এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর সহপাঠী ও শিক্ষক মহলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
এস এম সোহাগ ফরাজী