দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইজির আখড়াবাড়ির দানবাক্স উন্মুক্ত: প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে চলছে টাকা গণনা
স্টাফ রিপোর্টার:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইজির পবিত্র মাজার ও আখড়াবাড়ির দানবাক্সগুলো দীর্ঘদিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উৎসবমুখর ও কড়া নজরদারির মধ্যে প্রকাশ্যে চলছে দানের টাকা গণনা কার্যক্রম।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং লালন একাডেমির পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে থাকা লোহার দানবাক্সগুলো একে একে সিলগালা ভেঙে উন্মুক্ত করা হয়।
দানবাক্সগুলো খোলার পর ভেতরে থাকা নগদ টাকা, দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ধাতব পয়সা বস্তাবন্দী করে মাজার প্রাঙ্গণের নির্ধারিত স্থানে আনা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং একাডেমির কর্মচারীদের সমন্বয়ে একাধিক দল গঠন করে টাকা গণনার কাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘদিন পর এভাবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সবার সামনে প্রকাশ্যে টাকা গণনার দৃশ্য দেখতে আখড়াবাড়িতে উপস্থিত দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাউল-ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও স্বস্তি লক্ষ করা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালন সাঁইজির মাজারে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত, অনুরাগী ও পর্যটক প্রতিনিয়ত শ্রদ্ধা জানাতে আসেন এবং তাঁদের ভক্তি ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে দানবাক্সে নগদ অর্থ দান করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব দানবাক্স নিয়মিত বা প্রকাশ্যে খোলা না হওয়ায় আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা সময়ে ভক্ত ও স্থানীয়দের মাঝে আলোচনা চলছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ প্রকাশ্য গণনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গণনা শেষ হওয়ার পর সরকারি কোষাগার অথবা লালন একাডেমির নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে। এই অর্থ মাজারের সার্বিক উন্নয়ন, আখড়াবাড়ির সংস্কার, বাউলদের কল্যাণ এবং প্রতি বছর অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক লালন স্মরণোৎসব ও তিরোধান দিবসের আয়োজনে স্বচ্ছতার সাথে ব্যয় করা হবে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত টাকা গণনার কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর মোট সংগৃহীত টাকার চূড়ান্ত অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এস এম সোহাগ ফরাজী