১১ দিনের ব্যবধানে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু: চিকিৎসকের পর মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোক ও চাঞ্চল্য
মৌলভীবাজার ও সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সিলেটের ভাড়া বাসা থেকে তরুণ চিকিৎসক ডা. পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত (৩১)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের মাত্র ১১ দিনের মাথায় মৌলভীবাজারে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হলো তাঁর বাবা পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীরও ঝুলন্ত মরদেহ। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বাবা ও ছেলের এমন মর্মান্তিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সিলেট ও মৌলভীবাজারজুড়ে তীব্র শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে অবস্থিত ‘ভটের ফার্মেসি’র দ্বিতীয় তলার নিজ বাসা থেকে পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন এবং ভবনের দ্বিতীয় তলাতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করে পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মৌলভীবাজার মডেল থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভেতর থেকে আটকানো দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোজ কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
ছেলের শোক সইতে না পেরেই কি চরম সিদ্ধান্ত?
মৌলভীবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "কয়েক দিন আগে তাঁর তরুণ চিকিৎসক ছেলে সিলেটে আত্মহত্যা করেন। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীর সাথে বিরোধের জেরে ছেলে এমন পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। একমাত্র সন্তানকে হারানোর গভীর শোক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।"
১১ দিন আগের প্রেক্ষাপট
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে করা এই তরুণ চিকিৎসক নতুন বাসায় ওঠার পরদিনই রহস্যজনকভাবে মারা যান। ছেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বাবারও এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এখন শুধুই কান্নার রোল। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
এস এম সোহাগ ফরাজী