মহেশখালীতে চুরির অভিযোগে যুবককে খুঁটিতে বেঁধে পিঠে ইটচাপা দিয়ে হত্যা: বর্বরতায় তোলপাড়, বাড়ছে ‘মব’ আতঙ্ক
কক্সবাজার প্রতিনিধি / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: চুরির সন্দেহে এক দিনমজুর যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় খুঁটির সাথে বেঁধে, পিঠে ভারি ইটচাপা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের মহেশখালীতে। নিহত যুবকের নাম ফয়সাল। তিনি পেশায় একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন।
এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
শ্বাসকষ্টে ছটফট ও ইটচাপা দিয়ে নির্যাতন
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরির সন্দেহে ফয়সালকে দিনভর আটকে রাখা হয়। এরপর তাঁর হাত-পা শক্ত রশি দিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। বুক বরাবর রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়ে ফয়সাল বারবার রশির বাঁধন সামান্য আলগা করে দেওয়ার জন্য নির্যাতনকারীদের কাছে মিনতি করছিলেন।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাঁর কোনো আর্তনাদই মন গলাতে পারেনি হামলাকারীদের। উল্টো উপুড় করা অবস্থায় তাঁর পিঠের ওপর ভারি ইটচাপা দিয়ে ওপর থেকে লাঠিসোঁটা দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পৈশাচিক নির্যাতনে নিস্তেজ হয়ে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ফয়সাল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের আগুন
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, নির্মমভাবে খুঁটির সাথে বাঁধা যুবকের পিঠে স্তূপাকারে ইটচাপা দেওয়া রয়েছে। এমন বীভৎস দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছেন নেটিজেনরা। সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে এই বর্বরোচিত ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনের শাসন ও লাগামহীন ‘মব কালচার’ নিয়ে প্রশ্ন
স্বাধীন দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন বিচারহীন মধ্যযুগীয় বর্বরতা কীভাবে ঘটতে পারে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা ‘মব জাস্টিস’-এর নামে মানুষ পিটিয়ে হত্যার অপসংস্কৃতি বন্ধ না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অধিকারকর্মীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সমাজে আইনের শাসন সুসংহত করতে অবিলম্বে এ ধরনের মব কালচারের লাগাম টেনে ধরা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গণপিটুনির মতো জঘন্য অপরাধ শক্ত হাতে দমন করা না গেলে তা সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ফয়সালের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ও জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী