সিলেটের মোগলাবাজারে ডিবি পুলিশের বড় অভিযান: পিকআপ ও নোহাসহ ৯৬৭০ পিস ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক জীবনযাত্রা
সিলেট প্রতিনিধি: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী
সিলেট:
সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজারে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ৬৭০ পিস ইয়াবাসহ একটি আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (এসএমপি ডিবি)। এ সময় মাদক চোরাচালান ও পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস এবং একটি নম্বরবিহীন পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ১২টা ৫ মিনিটে মোগলাবাজার থানাধীন নৈখাই খালেরমুখ বাজারস্থ হক ট্রেডার্সের সামনের পাকা সড়কে এ সফল অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
১. মো. নুর হাকিম (৩০): পিতা মৃত লাল মিয়া, সাং- চর নতুন বন্দর, থানা- রৌমারী, জেলা- কুড়িগ্রাম।
২. মো. রুবেল মিয়া (৩০): পিতা আজবাহার মিয়া, সাং- শৌলমারী, থানা- রৌমারী, জেলা- কুড়িগ্রাম।
৩. মো. এহসানুল হক (২৬): পিতা আব্দুল খালেক, সাং- নতুনবন্দর, থানা- রৌমারী, জেলা- কুড়িগ্রাম।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় একটি বড় ধরনের মাদকের চালান মোগলাবাজার এলাকা দিয়ে পরিবহনের প্রস্তুতি চলছে। সংবাদের সত্যতা পেয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল নৈখাই খালেরমুখ বাজারে অবস্থান নেয়। সেখানে সন্দেহভাজন একটি নোহা গাড়ি ও পিকআপ ঘিরে ফেললে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সহযোগী দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আভিযানিক দল গাড়ি দুটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকানো ৯ হাজার ৬৭০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ওই তিন কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত নম্বরবিহীন পিকআপ ও নোহা মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ-৫৩-২১৩২) জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, পলাতক সহযোগীদের মাধ্যমে তাঁরা সিলেটের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন চোরাই পথ দিয়ে ইয়াবার এই বড় চালানগুলো সংগ্রহ করতেন। এরপর পিকআপ ও মাইক্রোবাসের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা চড়া দামে সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইনে মোগলাবাজার থানায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-০৪, তারিখ: ০৯/০৯/২০২৬ খ্রি., ধারা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণীর ১০(গ)/৩৮/৪১) রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের সাথে জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী