সিলেটে ২ শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ: জৈন্তাপুর থেকে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক জীবনযাত্রা
সিলেট প্রতিনিধি: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী
সিলেট:
সিলেট নগরীর উপকণ্ঠে মাদ্রাসার হিফজ শাখার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ফয়জুল হক নামের এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে জৈন্তাপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানা-পুলিশ। পরবর্তীতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক ফয়জুল হকের বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। তিনি সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই শিশুর বয়স আনুমানিক ৮ থেকে ১০ বছর। তারা দুজনই ওই মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে আবাসিকে থেকে পড়াশোনা করত। সম্প্রতি শিশু দুটি মাদ্রাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে যায় এবং পুনরায় মাদ্রাসায় যেতে তীব্র অনীহা ও কান্নাকাটি শুরু করে।
অভিভাবকরা সন্দেহবশত কারণ জানতে চাইলে শিশুরা জানায়, রাতে তাদেরকে জোরপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষক ফয়জুল হকের শয়নকক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে তাদের ওপর পাশবিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হতো।
শিশুদের মুখে এমন অমানবিক ঘটনার বিবরণ শুনে স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে শাহপরাণ (রহ.) থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শিক্ষক ফয়জুল হক দ্রুত মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে নিজ এলাকা জৈন্তাপুরে আত্মগোপন করেন। পরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জৈন্তাপুর থেকে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ জানান, "অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর কথা স্বীকার করেছেন।"
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে শারীরিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য শিশু দুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী