সিলেটে চুরির অপবাদে ১৬ বছরের কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক জীবনযাত্রা
সিলেট প্রতিনিধি: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী
সিলেট:
সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কোমরে লোহার শিকল বেঁধে রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার এক বর্বর ঘটনা ঘটেছে। অমানবিক এ নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে ওই কিশোরীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও আটককারীদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক তরুণীর কোমরে শক্ত করে লোহার শিকল প্যাঁচানো। সেই শিকলের অপর প্রান্ত ধরে এক যুবক তাকে সড়কের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীটি ভয়ে ও যন্ত্রণায় অঝোরে কান্না করছিল। তবে ভিডিওতে শিকল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট দেখা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপশহরের ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মসজিদ মার্কেটের একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করে ওই কিশোরী। এ সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে তাকে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং রাত গভীর হলে কোমরে শিকল বেঁধে প্রকাশ্য সড়কে হাঁটানো ও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
খবর পেয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১১টার পর ঘটনাস্থল থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, "স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। তার বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ বছর হবে। স্থানীয়রা ক্যাশ বাক্স চুরির অভিযোগ তুললেও থানায় কেউই তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত এজাহার জমা দেননি। পরে আইন অনুযায়ী তাকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন, ২০০৯ (SMP Act)-এর ৮৯ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
শিকল বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, "শেকল পরিয়ে ঘোরানোর বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। তবে আইনের বাইরে গিয়ে কোনো নাগরিককে এমন অমানবিক নির্যাতন করা সুস্পষ্ট আইন পরিপন্থী ও অন্যায় কাজ।"
বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন বলেন, "ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী সাধারণ জনগণ আমলযোগ্য অপরাধে লিপ্ত কোনো ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষমতা রাখেন। তবে নিয়ম হলো অনতিবিলম্বে তাকে নিকটস্থ থানা বা পুলিশের হেফাজতে সোপর্দ করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অভিযুক্তকে শিকল বাঁধা, জনসমক্ষে ঘোরানো কিংবা যেকোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দণ্ডনীয়।"
এস এম সোহাগ ফরাজী