সুনামগঞ্জে মেয়ের মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স খাদে: নারী ও শিশুসহ আহত ১৩
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: নরসিংদী থেকে তরুণী মেয়ের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্স গভীর খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
পারিবারিক ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের বাসিন্দা মো. হেলাল মিয়ার মেয়ে নাদিয়া আক্তার (১৭) শুক্রবার রাতে নরসিংদীর গাউছিয়া এলাকায় বাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। শনিবার ভোরে নরসিংদী থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে নাদিয়ার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তাঁর বাবা, চাচাসহ স্বজনরা। অ্যাম্বুলেন্সটিতে মরদেহের সঙ্গে দুই পরিবারের নারী ও শিশুসহ মোট ১২ জন যাত্রী এবং চালক উপস্থিত ছিলেন।
সকালে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদরপুর এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির অ্যাম্বুলেন্সটি হঠাৎ চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে আছড়ে পড়ে। এতে ভেতরে থাকা সবাই গুরুতর আঘাত পান।
আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন—নিহতের পিতা হেলাল মিয়া (৫৫), মা হেনা আক্তার (৩৫), বোন সাদিয়া আক্তার (১৫), তানিসা আক্তার (৮), ভাই আরিফুল ইসলাম ফয়েজ (২০), আবু সুফিয়ান (১৩), ভাইয়ের স্ত্রী রহিমা বেগম (১৯), ভাতিজা মো. রাইয়ান মিয়া (২), চাচা বিল্লাল হোসেন (২২), চাচি তানজিনা বেগম (২০), চাচাতো বোন সাবিনা বেগম (৪), চাচাতো ভাই ফুয়াদ আহমেদ (২) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক রনক হাসান হৃদয় (৩৮)।
উদ্ধার অভিযান ও প্রাথমিক চিকিৎসা
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এক সচেতন পথচারী তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে। পরে তাঁদের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বিকল্প গাড়ি ও আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে মরদেহসহ আহতদের জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক গ্রামে পাঠানো হয়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ মো. ফজল মিয়া জানান, "সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখুঁতভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ ১৩ জনই আহত হয়েছিলেন। বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।"
স্বজন হারানোর শোকের মাতমের মধ্যে এমন দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা